প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৮ মার্চ, ২০২৬
আত্মসংযমের মাস রমজান। এ মাস এলেই আকাশে-বাতাসে এক অন্যরকম পবিত্রতার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে। পুরো মাসজুড়ে মুসলমানদের জীবনে নেমে আসে অনিন্দ্য সুন্দর শৃঙ্খলা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাই কী রোজার মূল উদ্দেশ্য নাকি এ মাসটি আমাদের ডাকছে আরও গভীর কোনো পরিবর্তনের দিকে? হারাম থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হওয়ার দিকে? রোজার মূল লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন; অর্থাৎ আল্লাহর ভয়ে হারাম থেকে দূরে থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা।
ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত : ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হারাম খাদ্য থেকে বেঁচে থাকা। হারাম খাদ্য থেকে অর্জিত শক্তির ইবাদত আল্লাহতায়ালা কবুল করবেন না। পবিত্র কোরআনে নেক আমলের আগে হালাল খাদ্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা হালাল খাবার খাও এবং নেক আমল কর।’ (সুরা মোমিনুন : ৫১)। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা নিজে পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছু কবুল করেন না।’ (মুসলিম : ১০১৫)। হারাম খাদ্য অপবিত্র, এর থেকে সঞ্চিত শক্তিও অপবিত্র। এ অপবিত্র শক্তি ব্যয় করে যে ইবাদত করা হবে, তাও হবে অপবিত্র। এমন ইবাদত আল্লাহতায়ালা কবুল করবেন না। হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ হারাম।
হারাম উপায়ে সম্পদ উপার্জনের পথ : হারাম উপায়ে সম্পদ উপার্জনের অনেক পথ রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো-
ক. সুদি লেনদেন : সুদের লেনদেন সুস্পষ্ট হারাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল এবং সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা : ২৭৫)। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘হে মোমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ খেয়ো না।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৩০)। শুধু সুদ খাওয়া নয়, সুদ দেওয়া-নেওয়া, সুদি লেনদেনের সাক্ষী, লেখকসহ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সবকিছুর ওপর আল্লাহর লানত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও সাক্ষীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।’ (তিরমিজি : ১২০৬)।
খ. ঘুষের বিনিময় : ঘুষ দেওয়া-নেওয়া উভয়টাই হারাম। এটি রাষ্ট্রীয় আইনেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ঘুষের আয় থেকে খাবার গ্রহণ, জীবিকা নির্বাহ করা কিংবা পরিবার চালানো সবকিছুই হারাম। নবীজি (সা.) বলেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ে জাহান্নামে যাবে।’ (মুজামুল আওসাত : ২০২৬)।
গ. জুলুমের উপার্জন : কারো ওপর জুলুম করা জঘন্যতম অপরাধ। জালেমের ওপর সবসময় আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হতে থাকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জেনে রাখ, জালেমদের ওপর আল্লাহর লানত রয়েছে।’ (সুরা হুদ : ১৮)। জুলুমের মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদও হারাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যারা এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা নিজেদের পেটে শুধু আগুনই ভর্তি করছে। শিগগিরই তারা জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুনে প্রবেশ করবে।’ (সুরা নিসা : ১০)।
ঘ. অন্যায় পথে অর্জিত সম্পদ : অন্যায় পথে উপার্জন করা এবং সেগুলো ভোগ করা হারাম। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে-অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করো না।’ (সুরা নিসা : ১০)। অন্যায়ভাবে উপার্জনের অনেক পথ রয়েছে। যেমন- চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, জুয়া, ধোঁকাবাজির উপার্জন, হারাম পণ্য তথা মদ, গাঁজা ইত্যাদি থেকে উপার্জিত অর্থ ইত্যাদি।