প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
সম্পদ মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জীবন চরাচরে সম্পদের বিকল্প নেই। তাই জীবন-বাস্তবতার তাগিদেই মানুষকে সম্পদ উপার্জন করতে হয়। জীবন ধারনসহ মানব জীবনের সব ক্ষেত্রে সম্পদের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা সুস্পষ্ট। ইসলামের দেওয়া যাবতীয় বিধানাবলি পালনের ক্ষেত্রেও সম্পদ উপার্জন অপরিহার্য। নামাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক, জাকাত আদায়, হজ সম্পাদন, রোজার জন্য পানাহার, অধীনস্তদের ভরণ-পোষণ, দান-সদকা সব ক্ষেত্রেই সম্পদ উপার্জন করা আবশ্যক।
আল্লাহতায়ালা তাঁর স্রষ্টাসুলভ প্রজ্ঞার কারণে মানুষের ঘরে ঘরে রিজিক পৌঁছে না দিয়ে সম্পদকে পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর মানুষকে তাগিদ করেছেন ইসলাম নির্দেশিত বৈধ পন্থায় নিজেদের রিজিক অন্বেষণ করে নিতে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন নামাজ সমাপ্ত হয়, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) অনুসন্ধান করো। আর তোমরা বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা জুমা : ১০)। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাকে ইসলাম নিন্দা করেছে। শ্রম ব্যয় করে উপার্জনের আদেশ করেছে। বহু হাদিসে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। হালাল উপার্জনকে নানাভাবে বিশেষায়িত করা হয়েছে। যেমন-
১. হালাল উপার্জন ফরজ : রাসুল (সা.) বলেন, ‘ফরজ বিধানাবলির পর হালাল সম্পদ উপার্জন করাটাও ফরজ (কর্তব্য)।’ (শোআবুল ঈমান লিল বায়হাকি : ৮৩২৭)।
২. হালাল উপার্জন জিহাদের সমতুল্য : রাসুল (সা.) বলেন, ‘হালাল উপার্জন জিহাদ সমতুল্য।’ (মুসনাদুশ শিহাব আল কাজায়ি : ৮২)। ইমাম যাইনুদ্দিন আল কাহেরি (রহ.) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘সওয়াবের দিক থেকে তা জিহাদের সমতুল্য। কেননা, আল্লাহর ভয়ে হারামের অবারিত পথ ছেড়ে কষ্ট স্বীকার করে হালাল উপার্জন করছে। এটাই তো বড় জিহাদ।’ (ফাইযুল কাদির : ২৭০/৪)।
৩. উপার্জনের পথ আল্লাহর পথ : হালাল উপার্জনের পথকে হাদিসে আল্লাহর পথ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আনাস (রা.) বলেন, আমরা তাবুক যুদ্ধে থাকাকালীন এক সুঠামদেহী যুবককে বকরি চরাতে দেখলাম। আমরা বললাম, সে যদি তার যৌবনকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করত, তাহলে কত ভালো হতো! রাসুল (সা.) আমাদের কথা শুনে বললেন, ‘সে তার পিতামাতা বা তাদের একজনের কিংবা নিজের সন্তানাদির ভরণ-পোষণে অথবা নিজের জন্য উপার্জনে সময় দিল, তাহলে সে আল্লাহর পথেই রয়েছে।’ (বায়হাকি : ১৫৭৪১)।
৪. উপার্জনকারী বড় ইবাদতগোজার : এক হাদিসে আছে, ঈসা (আ.) এক লোককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী কাজ করো?’ বলল, ‘ইবাদত-বন্দেগি করি।’ তিনি বললেন, ‘তোমার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা কে করে?’ বলল, ‘আমার ভাই।’ ঈসা (আ.) বললেন, ‘তোমার ভাই তোমার চেয়ে বড় ইবাদতকারী।’ (আল মুজালাসাতু ওয়া জাওয়াহিরুল ইলম : ১২৩/৩)।
৫. হালাল উপার্জনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমার ঘোষণা : বর্ণিত আছে, ‘যে ব্যক্তি হালাল উপার্জনে পরিশ্রান্ত অবস্থায় রাতযাপন করে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং সে ক্ষমাপ্রাপ্ত অবস্থায় সকাল করে।’ (শরহে ইবনে বাত্তাল : ২০১/৬)। ওমর (রা.) বলেন, তোমাদের কেউ যেন রিজিক অন্বেষণ না করে হাত-পা গুটিয়ে বসে ‘হে আল্লাহ, আমাকে রিজিক দাও’ বলে প্রলাপ না বকে। কেননা, তোমরা ভালোভাবেই জানো, আসমান থেকে সোনা-রুপা নাজিল হবে না।