ঢাকা শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ভোটারের করণীয়

আবদুস সাত্তার সুমন
ভোটারের করণীয়

ভোট আজকের যুগে শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, একটি আমানত। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রত্যেক আমানতের যথাযথ ব্যবহার করা জরুরি। তাই কোরআন-হাদিসের আলোকে ভোটকে দেখা মানে শুধু একটি কাগজের ব্যালট নয়, বরং ন্যায়-অন্যায়ের মধ্যে সঠিক পথকে বেছে নেওয়ার অঙ্গীকার।

কোরআনের আলোকে ভোট

ক. আমানতের দায়িত্ব : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন, তোমরা আমানত তার হকদারের কাছে পৌঁছে দাও।’ (সুরা নিসা : ৫৮)। ভোট হলো সেই আমানত, যার মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দেওয়া যায়। যদি অযোগ্য, দুর্নীতিপরায়ণ বা জালেম কাউকে ভোট দেওয়া হয়, তবে আমানতের খেয়ানত হবে।

খ. শুরা (পরামর্শ) প্রথা : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাদের কার্যাবলি নিজেদের মধ্যে পরামর্শের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।’ (সুরা শুরা : ৩৮)। ভোট হলো আধুনিক কালে শুরার একটি রূপ। মানুষ যোগ্য ও বিশ্বস্ত নেতাকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে পরামর্শ কার্যকর করে।

হাদিসের আলোকে ভোট

ক. অযোগ্যকে দায়িত্ব দেওয়া ধ্বংসের কারণ : রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দেওয়া হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা কর।’ (বোখারি : ৬৪৯৬)। অতএব, ভোট দেওয়ার সময় অযোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা মানে সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া।

খ. মোমিনের সাক্ষ্য : রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম জিহাদ হলো জালেম শাসকের সামনে সত্য কথা বলা।’ (সুনানে নাসায়ি : ৪২০৯)। ভোট হলো এক ধরনের সাক্ষ্য ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। ভুল মানুষকে ভোট দেওয়া মানে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া, যা ইসলামে বড় গোনাহ।

ভোটারের করণীয়

ক. যোগ্য প্রার্থী খুঁজে বের করা : শুধু মুসলিম হওয়া বা জনপ্রিয় হওয়াই যথেষ্ট নয়; প্রার্থীকে ন্যায়পরায়ণ, সৎ, জ্ঞানী ও আমানতদার হতে হবে।

খ. ভোট দেওয়া ইবাদতের অংশ : ভোটকে অবহেলা করা মানে আমানতের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাওয়া। আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা আছে।

গ. ন্যায়ের জন্য ভোট : ব্যক্তিগত লোভ, অর্থ বা উপহারের বিনিময়ে ভোট দেওয়া শিরক। কারণ, এতে সত্যকে মিথ্যার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘ. ভোট মানে সাক্ষ্য : ভোট দেওয়া মানে নিজের হাতে সমাজকে নিরাপদ বা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া। তাই এটাকে সত্য সাক্ষ্যের মর্যাদা দিতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত