প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১৫ মে, ২০২৬
দুনিয়া ও আখেরাতের সার্বিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করে স্বভাব ধর্ম ইসলামে স্বল্পভাষিতার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। তাই তো প্রাণের ধর্ম ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, মোমিন ভালো কথা বলবে, অন্যথায় চুপ থাকবে। প্রিয়নবী (সা.) আমাদের এ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালা ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ (বোখারি : ৬৪৭৫)। জবানকে নিয়ন্ত্রণ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক বিপদ থেকে নাজাত পাওয়া যায়। মুক্তি লাভ করা যায় অনভিপ্রেত নানা দুর্ঘটনা থেকে। ওকবা ইবনে হামের (রা.) সূত্রে বর্ণিত; তিনি বলেন, একদিন আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আরজ করলাম, ‘মুক্তির উপায় কি?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখো, নিজের ঘরে পড়ে থাকো এবং পাপের জন্য ক্রন্দন কর।’ (তিরমিজি : ২৪০৬)।
সংযত ব্যবহার ইসলামের সৌন্দর্য : চারদিকে অযথা ও অনর্থক বিষয়াদির ছড়াছড়ি। এসব বাজে কাজে সময় নষ্ট না করে জিকির-আজকার, কোরআন তেলাওয়াত, মানবসেবার মতো আমল করার আরও কত সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আমরা কী করি? সুযোগ পেলেই অনর্থ আলাপচারিতায় মেতে উঠি! অথচ অযথা কথা মানুষকে আল্লাহতায়ালার জিকির থেকে বিরত রাখে। বেহুদা গল্পগুজবে মেতে ওঠা ও অনর্থক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া মোমিনের জন্য বেমানান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে, অনর্থক কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা।’ (বোখারি : ৪৫৬৬)।
অহেতুক কথাবার্তা শাস্তির কারণ : অনর্থক কথাবার্তা ও অযথা গল্পগুজবে লিপ্ত হওয়া এমন জঘন্য অপরাধ, যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। পাপিষ্ঠদের জাহান্নামে শাস্তি ভোগ করার বড় একটি কারণ। জাহান্নামিরা নিজেদের মুখেই তাদের এ অপরাধ স্বীকার করবে। জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করা হবে, ‘কোন জিনিস তোমাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করেছে?’ তারা বলবে, ‘আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। আমরা মিসকিনদের খাবার দিতাম না। আর যারা অহেতুক আলাপ-আলোচনায় মগ্ন হতো, আমরাও তাদের সঙ্গে তাতে মগ্ন হতাম। আমরা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতাম।’ (সুরা মুদ্দাসসির : ৪২-৪৬)।
অনর্থ বিষয় পরিহার করা সফল মোমিনের বৈশিষ্ট্য : সফল মোমিনদের অন্যতম গুণ হচ্ছে, অযথা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মোমিনরা। যারা তাদের নামাজে আন্তরিকভাবে বিনীত। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে।’ (সুরা মোমিনুন : ১-৩)। এটি আল্লাহতায়ালার প্রিয় বান্দাদেরও বিশেষ গুণ। দয়াময় আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে এক পর্যায়ে বলেন, ‘রহমানের বান্দা তারা, যারা অন্যায় কাজে শামিল হয় না এবং যখন কোনো বেহুদা কার্যকলাপের পাশ কেটে যায়, তখন আত্মসম্মান বাঁচিয়ে যায়।’ (সুরা ফোরকান : ৭২)। জান্নাতিরা জান্নাতে অসংখ্য নেয়ামতে ডুবে থাকবে। তার মধ্যে একটি নেয়ামত হচ্ছে, সেখানে তারা কোনো অযথা কথাবার্তা শুনতে পাবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা জান্নাতে শুনবে না কোনো অহেতুক কথা এবং না কোনো পাপের কথা। তবে সেখানে হবে শুধু শান্তিপূর্ণ কথা, শুধুই শান্তিপূর্ণ কথা।’ (সুরা ওয়াকিয়া : ২৫-২৬)।
সুন্দর কথায় শয়তানের কারসাজি থেকে পরিত্রাণ : সুন্দর ও মার্জিত ব্যবহারের জন্য আল্লাহতায়ালা আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর দ্বারা আল্লাহর হুকুম পালন হয় এবং শয়তানের কুক্রিয়া থেকেও রক্ষা হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমার বান্দাদের বলে দাও, তারা যেন এমন কথাই বলে, যা উত্তম।
নিশ্চয় শয়তান মানুষের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সুরা বনি ইসরাইল : ৫৩)।