ঢাকা রোববার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার আহ্বান

চাঁদপুর-৪ আসন
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কাছে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার আহ্বান

বিএনপি থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন প্রাপ্ত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোসর বঙ্গবন্ধু সমাজ কল্যাণ পরিষদের আজীবন সদস্য লায়ন হারুনুর রশিদণ্ডএর মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানিয়েছে চাঁদপুর (ফরিদগঞ্জ) ৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণ। গতকাল মঙ্গলবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপি চেয়াপার্সন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বরাবর এ দাবি জানায় ফরিদগঞ্জের ৫নং পূর্ব গুপ্টি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান।

লিখিত আবেদনে মিজানুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির জনমত জরিপের ভিত্তিতে আলহাজ্ব এম এ হান্নানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তখন এম এ হান্নানের বিরুদ্ধে নিজ হাতে লিখিত মিথ্যা তথ্য দিয়ে চেম্বার জজ আদালতে মনোনয়ন স্থগিতের আবেদন করেন স্বৈরাচারের দোসর হারুনুর রশিদ। চেম্বার জজ আদালত এম এ হান্নানের মনোনয়ন নির্বাচনের তিনদিন আগে স্থগিত করে। নির্বাচনের তিনদিন আগে হারুনুর রশিদ ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে। এম এ হান্নান নির্বাচন-পরবর্তীতে হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। সেই প্রতারণার মামলায় হারুনুর রশিদ তিন দিন জেল খাটেন।

মানুষের প্রতি এম এ হান্নান সাহেবের আন্তরিকতা এবং ভালোবাসার কারণে ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনমতের জরিপের ভিত্তিতে উনাকে ধানের শীষের মনোনয়নে মনোনীত করেন। উনার সাথে ব্যাক অফ হিসাবে আরও দুজনকে দল মনোনয়ন দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও তিন জনের তালিকায় হারুনুর রশিদের নাম না থাকলেও সে পুনরায় স্বৈরাচার সরকারের আমলা এবং তাদের আজ্ঞাবহ কোর্টের সহযোগিতায় এম এ হান্নানের মনোনয়নটি নির্বাচনের একদিন পূর্বে বাতিল করে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। কিন্তু দল যেহেতু এম এ হান্নানকে মনোনয়ন দিয়েছে সেহেতু ২০১৮ সাল পরবর্তী সময়ে এম এ হান্নানের হাতেই ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির দায়িত্ব ছিল। দলের এই দুঃসময়ে রাজনৈতিক সকল কর্মকাণ্ড উনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, হারুনুর রশিদ কখনও রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেননি, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, একদিনও রাজনৈতিক মামলায় জেল খাটেননি, সেই লায়ন হারুন কীভাবে দল থেকে প্রাথমিক মনোনয়নে মনোনীত হলো দলের নিবেদিতপ্রাণ মানুষগুলো জানতে চায়।

লিখিত আবেদনে মিজানুর আরও বলেন, ২০০৬ সালে বিএনপি’র প্রার্থীর বিরুদ্ধে আম মার্কা নিয়ে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, পরে সেই নির্বাচন আর হয়নি। আওয়ামী সরকারের সময় বিগত দিনে লীগের সহযোগিতায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দেশে-বিদেশে অর্থ-সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে হারুনুর রশিদ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে নিজের নামে রিয়েল এস্টেট কোম্পানীও করেছে। এখনও সে নানাভাবে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এসময় তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে হারুনুর রশিদের মনোনয়ন বাতিল করে এম এ হান্নানকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত