ঢাকা শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

গাজার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

গাজার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বোর্ড অব পিস গঠন করা হয়েছে। আর এ ঘোষণা দেওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। বোর্ডের সদস্যদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, এটি যেকোনো সময় বা যেকোনো স্থানে গঠিত বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ।’ এর আগে গত বুধবার মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। পৃথক এক পোস্টে ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ ‘আনুষ্ঠানিকভাবে’ শুরু হওয়ার কথা জানান।

ট্রাম্প বলেন, ‘বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যান হিসেবে আমি নবনিযুক্ত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকার, অর্থাৎ গাজা পরিচালনার জাতীয় কমিটিকে (ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা) সমর্থন দিচ্ছি। অন্তর্বর্তী সময়ে গাজা শাসনে এ কমিটিকে বোর্ডের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ সহায়তা করবেন। এই ফিলিস্তিনি নেতারা শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের প্রতি অবিচলভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, মিসর, তুরস্ক ও কাতারের সহযোগিতায় হামাসের সঙ্গে একটি ‘বড় ধরনের নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি’ সম্পন্ন করা হবে। প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীটিকে তাদের সব অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘হামাসকে অবশ্যই তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো অবিলম্বে রক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে ইসরায়েলের কাছে সর্বশেষ জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর এবং কালক্ষেপণ না করে পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণের পথে হাঁটা অন্তর্ভুক্ত। আমি আগেও বলেছি, তারা চাইলে এটি সহজভাবে করতে পারে অথবা কঠিন পরিণতির মাধ্যমেও হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজার মানুষ অনেক সহ্য করেছে। এখন সময় এসেছে (শান্তির)।’ গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প গাজা নিয়ে একটি ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সেখানে গাজায় যুদ্ধবিরতির রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, উপত্যকাটিতে একটি টেকনোক্র্যাট প্রশাসন গঠন ও একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন। সেই সঙ্গে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের দাবিও জানানো হয় এতে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলায় গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। ইসরায়েলি তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৩০০ জনের বেশি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত