
বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুসহ ১৬ জনের দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জাজ আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. রিয়াজ হোসেন বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়া অন্যরা হলেন- বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম সাজেদুর রহমান, সাবেক এমডি অ্যান্ড সি.ই.ও কাজী ফখরুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক পরিচালক ফজলুস সোবহান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব শাহ আলম ভূইয়া, সাবেক পরিচালক জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, ফখরুল ইসলাম, শুভাশিষ বোস, নিলুফার আহমেদ, ড. কাজী আক্তার হোসাইন, আনোয়ারুল ইসলাম, গুলশান শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক সিপার আহমেদ, তাহমিনা ডেনিম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির আহমেদ খান, চেয়ারম্যান কামাল জামান মোল্লা, পরিচালক কাজী রিজওয়ানা মোমিনুল হক, চীফ সার্ভেয়ার জসিম উদ্দিন চৌধুরী।
আবেদনে বলা হয়েছে, ইয়াসির আহমেদ খান, কামাল জামান মোল্লা, কাজী রিজওয়ান মোমিনুল হক, শিপার আহমেদ, কাজী ফখরুল ইসলাম, ফজলুস সোবহান, কোরবান আলী, জসিম উদ্দিন চৌধুরী এবং শাহ আলম ভূইয়াদের বিদেশগমণে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের জন্য মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক উপপরিচালক মোনায়েম হোসেন ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি আদালতে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতের দেওয়া ৬০ দিনের জন্য বিদেশ গমন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হওয়ায় এজাহারনামীয় আসামি কাজী রিজওয়ান মোমিনুল হকের গমনরোধ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছেন।
মামলার তদন্তকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রে দেখা যায়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে, ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বক অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে অন্যায়ভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে বেসিক ব্যাংক লি. গুলশান শাখা থেকে ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে ২০২৩ সালের ১২ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করা যায়। বিশেষ জজ আদালত -১ কিছু পর্যবেক্ষণসহ মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ প্রদান করে দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে মামলার অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তকালে গোপন সূত্রে জানা যায়, এজাহারনামীয় ও তদন্তে আগত আসামিরা দেশত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তে বিঘ্ন হবে বিধায় তাদের দেশত্যাগ রহিত করা প্রয়োজন।