
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় বার্ষিক ওরছ শরীফের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার। পীরে কামেল বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দেদ, অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সরকারি পরিচালক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক, প্রখ্যাত সাহিত্যিক, সমাজসেবক, আধ্যাত্মিক সাধক, সমাজ সংস্কারক, জ্ঞান তাপস, মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত, মুক্তচিন্তা-চেতনার অধিকারী, মনোঃচিকিৎসক, দার্শনিক, ‘স্রষ্টার এবাদত ও সেবা’- এই ব্রত নিয়ে চলা নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানুল আউলিয়া কুতুবুল আকতাব, গাউছে জামান, আরেফ বিল্লাহ হযরত শাহ্ সুফি আলহাজ্ব খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.)-এর তিন দিনব্যাপী ৬২তম বার্ষিক ওরছ শরীফ নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে যথাযোগ্য ভাবগম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার প্রথম দিন শুরু হয়েছে।
এই মহান পবিত্র ওরছ শরীফ উপলক্ষে অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে নলতা শরীফকে। পবিত্র রওজা শরীফ নানা ধরনের আলোর ঝলকানি; বহুবিধ ফুল গাছে সুশোভিত রওজা শরীফ প্রাঙ্গণ আর স্বর্গীয় সুঘ্রাণে মাতোয়ারা নলতা শরীফের আবহ। দেশ-বিদেশের বহু এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার ভক্তসহ লাখো দর্শনার্থীর পদভারে উদ্বেলিত নলতা শরীফ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলে দলে লোক আসতে শুরু করেছে নলতা শরীফে। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশন কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনায় দেশের বিভিন্ন স্থান ও বিদেশ থেকে আগত পীর কেবলার হাজার হাজার ভক্তের আবাসন, খাবারের জন্য গেস্ট হাউসসহ অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে নলতা শরীফসহ আশপাশের এলাকার গ্রামগুলোতেও আত্মীয়-স্বজনরা চলে এসেছেন। নলতা আহ্ছানিয়া মিশনের পক্ষ থেকে পবিত্র ওরছ শরীফে তৈরি করা হয়েছে সুবিশাল সামিয়ানা, গেট ও প্যান্ডেল। পাক রওজা এলাকা সংলগ্ন আনুমানিক ছয় কিলোমিটার এলাকাব্যাপী জনস্রোত বইছে। সেই সঙ্গে বহুবিধ পণ্যসামগ্রীর পসরা বসেছে। মনোহরি হতে শুরু করে গৃহস্থালি, ইলেকট্রিক, বিভিন্ন ধরনের খেলনাসামগ্রী শোভা পাচ্ছে নলতা শরীফে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রোভার স্কাউট, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক এবং যানবাহন রাখার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। নলতা শরীফসহ আশপাশের এলাকায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করছে।