
দেশে চলমান জ্বালানিসংকট মোকাবিলা এবং টেকসই নগর গড়তে প্রাইভেট কারের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন নগর-পরিকল্পনাবিদেরা। তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে সামান্যসংখ্যক মানুষের প্রাইভেট কার থাকলেও সেগুলো সড়কের বিশাল অংশ দখল করে যানজট ও জ্বালানির অপচয় ঘটাচ্ছে।
ঢাকায় মোট পরিবারের মাত্র ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশের অন্তত একটি যানবাহন রয়েছে। এর মধ্যে গাড়ির মালিকানা মাত্র ২ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু এই অল্পসংখ্যক প্রাইভেট কারই সড়কের বড় অংশ দখল করে যানজট বাড়াচ্ছে। অথচ একই জায়গায় গণপরিবহন অনেক বেশি যাত্রী বহন করতে পারে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বাংলামোটরের প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বিআইপির সাধারণ সম্পাদক মু. মোসলেহ উদ্দীন হাসান এই সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীতে গণপরিবহনের ব্যবহার কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ। বিপরীতে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে ১২৫ শতাংশ এবং তিন চাকার যান বেড়েছে ৩৩ শতাংশ। হাঁটা ও সাইকেলের ব্যবহারও কিছুটা কমেছে, যা নগরের টেকসই কাঠামোর জন্য হুমকিস্বরূপ। প্রবন্ধে জোর দিয়ে বলা হয়, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি চাপ পড়ে। টেকসই পরিবহন নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সমন্বিত নীতিমালা ও কার্যকর বাস্তবায়ন গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবন্ধে। ট্রান্সপোর্ট ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বাধ্যতামূলক করা, নগর এলাকায় যান চলাচল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারের অস্থিরতা এবং ডলার-সংকট বিবেচনায় জ্বালানি সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দিতেও বলা হয়।