
বাংলা একাডেমির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিরপুরে একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন। এমন সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই ভবনেই অবস্থিত একটি ক্লিনিকে তাকে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের নেওয়ার পরামর্শ দেন। দ্রুত তাঁকে হার্ট ফাউন্ডেশনর আনা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা গেছেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মিরপুরের পল্লবীতে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমির সভাপতি পদে যোগ দেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম স্ত্রী ফরিদা প্রধান, মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শুচিতা শারমিন, পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর ছেলে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন। তাঁকে ২০১৫ সালে ৩১ অক্টোবর আজিজ সুপার মার্কেটে জঙ্গিরা হত্যা করে।
আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক ও ১৯৬৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে তিনি মার্ক্সবাদী ধারার রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকের প্রগতিশীল সব আন্দোলন এবং উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এরপর তিনি মার্ক্সবাদী রাজনীতির সব সাংগঠনিক সংযোগ ছিন্ন করেন।