
গত মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ে কর্মজীবী শিশুদের ও পথশিশুদের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নীতিনির্ধারণী অংশীজনদের সঙ্গে বার্ষিক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের শিক্ষা সেক্টর অধীনে পরিচালিত ড্রপ-ইন-সেন্টার (ডিআইসি)’র উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। তিনি বলেন, পথশিশু ও কর্মজীবী শিশুরা বাল্যবিবাহ, যৌন নির্যাতন ও শোষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব শিশু অরক্ষিত অবস্থায় রাস্তায় বসবাস করে।
এছাড়াও শিশুরা তীব্র আঘাত, অভিযোগ ও কলংকের দায় নিয়ে জীবনযাপন করছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি খারাপ প্রভাব পড়ছে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর। ডিআইসি প্রকল্পের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কার্যক্রমের অগ্রগতি, শিখন ও প্রতিবন্ধকতার উপর উপস্থাপন করেন ডামের শিক্ষা সেক্টরের যুগ্ম-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। এরপর তিনি মুক্ত আলোচনা সঞ্চালন করেন। এছাড়া সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. গোলাম রহমান বলেন, গ্রামীণ সমাজে বাল্যবিবাহের হার বেশি। সরকার যদি শক্তভাবে বিভিন্ন এনজিও ও সংস্থার মাধ্যমে কাজ করে তাহলে বাল্যবিবাহ রোধ করা সহজ হবে।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী দেশে ভায় ৫০% মেয়ের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাংলাদেশের শহর এলাকায় লাখের অধিক শ্রমজীবী শিশু রয়েছে। যার একটি বড় অংশ ঢাকা শহরে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের এমডিএস ডিআইজি ড. একেএম ইকবাল হোসেন, ডামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু তৈয়ব আবু আহমদ, ডা. মোহাম্মদ খলিল উল্লাহ এবং ড. এসএম খলিলুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ডামের নির্বাহী পরিচালক (কর্মসূচি) কেএম জাহিদুজ্জামান। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।