ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পর্যটন মৌসুম ঘিরে তেঁতুলিয়ায় আগাম প্রস্তুতি

পর্যটন মৌসুম ঘিরে তেঁতুলিয়ায় আগাম প্রস্তুতি

বর্ষার মেঘমেদুর পরিবেশ পেরিয়ে প্রকৃতিতে এখন শরতের আগমনী বার্তা। কাশফুলের শুভ্রতা আর নীল আকাশের হাতছানিতে শুরু হতে যাচ্ছে দেশের সর্বউত্তরের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়ার পর্যটন মৌসুম।

প্রতি বছরের মতো এবারও সেপ্টেম্বর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনসহ তেঁতুলিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আসন্ন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে পর্যটকদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সুন্দর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন স্পটে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আকাশের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার, মহানন্দা পার্ক, মহানন্দা রিভারভিউ ওয়াকওয়েসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের আনাগোনা তুলনামূলক কম থাকায় এবং এসব স্থানে স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় বিভিন্ন স্থানে আগাছা জন্মানো ও বর্জ্য জমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই এসব আগাছা ও জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ করে পর্যটন স্পটগুলোকে দর্শনার্থীদের জন্য আরও পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা হচ্ছে।

তেঁতুলিয়ার রয়েছে বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্ভার।

শরতের নির্মল আকাশে হিমালয়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফাবৃত চূড়ার দৃশ্য, দিগন্তজোড়া সবুজ চা-বাগান, মহানন্দা নদীর সৌন্দর্য, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এবং শীত মৌসুমের টিউলিপ বাগান পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

প্রতিবছর এসব সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক পর্যটক তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসেন। ফলে পর্যটন মৌসুমে সড়ক যোগাযোগ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানি, পার্কিংসহ নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন শিল্পের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিকাশ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটকদের নাগরিক সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাস্তবতা ও চাহিদার আলোকে পর্যায়ক্রমে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস. এম. আকাশ বলেন, আসন্ন পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে তেঁতুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে পর্যটকবান্ধব করে তুলতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, শুধু পর্যটন মৌসুমে নয়, দীর্ঘমেয়াদে তেঁতুলিয়ার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ দৃশ্য, চা-বাগান, মহানন্দা নদী ও সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে তেঁতুলিয়া এরইমধ্যে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ফলে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই প্রশাসনের এ পরিচ্ছন্নতা ও প্রস্তুতি কার্যক্রম পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত