
বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল না করলেও প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
গতকাল বুধবার বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ জানতে চান, বর্তমানে ভারতের সঙ্গে কোনো ট্রেন চলাচল করছে কি না; করলে, এর সংখ্যা কত এবং নতুন ট্রেন চালু করা হবে কি না।
জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। রহনপুর, দর্শনা ও বেনাপোল ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন দিয়ে পণ্যবাহী ভারতীয় গুডস ট্রেন গ্রহণ ও খালি র্যাক পাঠানো হচ্ছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৩টি পণ্যবাহী ট্রেন গ্রহণ ও ৪২টি খালি র্যাক পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে না। যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী-কলকাতা-রাজশাহী রুটে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান মোজাহিদের এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মিটারগেজ ইঞ্জিন ও কোচের স্বল্পতা রয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যাপ্ত সংখ্যক মিটারগেজ ইঞ্জিন ও কোচ প্রাপ্তিসাপেক্ষে ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটে মধ্যমেয়াদে এক জোড়া এবং দীর্ঘমেয়াদে আরও এক জোড়াসহ মোট দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনের রেলস্টেশনগুলো বিভিন্ন সময়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী সেকশনের স্টেশনগুলো 'জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ (প্রকৌশল সেবা) সংক্রান্ত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প'-এর মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হবে।
'বগুড়া হতে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প'-এর মাধ্যমে সফাদারপুর, বগুড়া ও কাহালু—এই তিনটি স্টেশন রিমডেলিংসহ নতুন আরও আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া বগুড়া থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত বিদ্যমান রেলস্টেশনগুলো বাজেট প্রাপ্তিসাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক : ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মোট ৫৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়েছে। একই সময়ে ৮১ কিলোমিটার নতুন ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট এবং ৫৯ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার (মাদারীপুর-২) লিখিত প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী জানান, ওই অর্থবছরে সরকার ২৫৯ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করেছে, ১৫৮ কিলোমিটার সড়ক শক্তিশালীকরণ এবং ২৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক পুনঃপৃষ্ঠায়নের কাজ সম্পন্ন করেছে।
তিনি জানান, এ সময়ে মোট ৪ হাজার ৫৮৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ৫৮টি সেতু, ১ হাজার ১৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের ২১৪টি কালভার্ট, ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ফ্লাইওভার, ৪২ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ওভারপাস এবং মোট ২১ দশমিক ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দু'টি আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে মোট ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা এডিপি বরাদ্দে ৯৫টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গণপরিবহনে জিপিএস চালুর উদ্যোগ: সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের সড়ক এবং মহাসড়কে চলাচলকারী গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকারি দলের সদস্য (মহিলা আসন-৩১) সানজিদা ইয়াসমিনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে গণপরিবহনের অবস্থান ও গতি সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ফলে গণপরিবহন যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, কোনো গণপরিবহন নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলে বা ট্রাফিক আইন অমান্য করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নরসিংদী-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিনের অপর এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেশাদার মোটরযান চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময় দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৪৬৩ জন গাড়িচালককে এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, মাদক সেবন করে মোটরযান চালানোর কুফল, নিরাপদ সড়কের গুরুত্ব এবং দূষণ রোধে করণীয় সম্পর্কে চালকদের সচেতন করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, 'বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প'-এর আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং ২০ হাজার ভারী যানবাহনের চালককে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দক্ষ ও নিরাপদ চালক তৈরি এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী।