ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

মাছ-মুরগিতে স্বস্তি ফিরলেও কাঁচাবাজারে অস্বস্তি

মাছ-মুরগিতে স্বস্তি ফিরলেও কাঁচাবাজারে অস্বস্তি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটসহ নানা সংকট সঙ্গী করেই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে বর্তমান সরকার। একের পর এক সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে তাদের। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই নিত্যপণ্যের দামে ওঠানামা করছে। কখনও কোনো পণ্যের দাম কমছে, আবার কিছুদিনের মধ্যেই তা বেড়ে যাচ্ছে। নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাজারে। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সবজির দাম। প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ। সীমিত আয়ের সঙ্গে বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা। তবে মাছের দাম কিছুটা কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে তেলাপিয়ার দাম কেজিতে ৮০ টাকা। পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা, মাঝারি রুই ও পাবদার দামও কমেছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৫ টাকা কমেছে। তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছ-মুরগির দাম কমলেও বেড়েছে ডিমের দাম। ডিমের দাম ডজনে সর্বোচ্চ ৫ টাকা বেড়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। এদিন রাজধানীর কমলাপুর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, লম্বা বেগুনের দাম বাজারভেদে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের বেগুন ৯০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। করলার দাম কিছুদিন আগে কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছিল। এখন মানভেদে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা আল আমিন বলেন, আমরা বাড়তি দামে কিনলে, দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হয়। এখন পাইকারি বাজারে দাম বাড়লে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে সব পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়েনি।

বাজার করতে আসা মাহমুদুল বলেন, বাজারে এসে দেখছি প্রায় প্রতিটি সবজির দামই আগের তুলনায় বেড়েছে। প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ সবজি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তেলের বাড়লে তার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় মধ্যবিত্তদের। তবে মাছের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। কিছু মাছের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও আজ তা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে দাম কমেছে ৩০ টাকা। তেলাপিয়ার দাম গত সপ্তাহের ২৬০ টাকা থেকে কমে আজ ১৮০ টাকা হয়েছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে তেলাপিয়ার দাম কমেছে ৮০ টাকা।

মাঝারি আকারের রুই মাছও গত সপ্তাহের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাঝারি রুইয়ের দাম ছিল ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। এদিন একই মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত