ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া সড়কে খানাখন্দ, ঝুঁকিতে যান চলাচল

ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া সড়কে খানাখন্দ, ঝুঁকিতে যান চলাচল

ময়মনসিংহের ত্রিশাল-ফুলবাড়িয়া ভায়া ধুরধুরিয়া সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত।

এর মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু হলেও তিন কিলোমিটার সড়কের মাত্র এক কিলোমিটার কাজ শেষ করে বাকি অংশ ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ত্রিশাল ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষায় গর্তে পানি ও কাদামাটি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে বেরিয়ে পড়েছে মাটি ও খোয়া। বৃষ্টির পানি জমে অনেক গর্ত বোঝার উপায় নেই। এসব গর্তে মালবোঝাই ট্রলি ও ছোট যানবাহন আটকে যাচ্ছে। প্রায়ই অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা গর্তে পড়ে কাত হয়ে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে যাত্রী ও চালকদের পাশাপাশি পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা এখন অনেকটাই থমকে আছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা পর্যন্ত ত্রিশাল-ধুরধুরিয়া সড়কের তিন কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুই কোটি সাত লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে মেসার্স সাইফুল ইসলামকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। তবে মে মাস পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার অংশের কাজ শেষ করার পর বাকি অংশের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছলিমপুর এলাকার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী অটোরিকশা ও ভ্যানে না গিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ বলেন, সড়কটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন টিউশনি করতে আসা-যাওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।

অটোরিকশা বা সিএনজিতে চলাচলের সময় কখন গাড়ি উল্টে যায়, সেই ভয় থাকে। অনেক সময় গর্তে পড়ে গাড়ি কাত হয়ে যায়। প্রাণ ও আরএফএল কোম্পানির স্থানীয় মার্কেটিং কর্মকর্তা আল আলামীন বলেন, ব্যবসায়িক কাজে প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। সম্প্রতি বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার বড় গর্তে পড়ে কাদামাটিতে পড়ে যাই। এতে আমার শার্ট-প্যান্ট নষ্ট হয়ে গেছে। সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ।

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আফজালুল হক আফজাল বলেন, আমাদের এমপি সাহেব এ রাস্তার কাজ উদ্বোধন করে গেছেন। কিন্তু এতদিনেও কাজ শেষ হয়নি। শুনেছি ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও সিএনজি প্রায়ই গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সড়কটির বিভিন্ন অংশে গর্ত ও ভাঙন থাকায় স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে একদিকে যাতায়াতে সময় বাড়ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদেরও অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে।এ বিষয়ে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ করে বিলের আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত আমাকে এক টাকাও বিল দেওয়া হয়নি। তাছাড়া বিটুমিন না পাওয়ায় কাজ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি-বাদল শেষ হলে দ্রুতই কাজ শেষ করে ফেলব। ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য একাধিকবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিটুমিনের কাজ করা কঠিন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরাসরি তদারকিতে দ্রুত সড়কের বাকি সংস্কারকাজ শেষ করা হোক। একই সঙ্গে সড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে খানাখন্দ সংস্কারেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত