
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে বাকি সাতজনের লাশ দেশে এসে পৌঁছেছে। গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (বিজি-৩৩৬) লাশগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে লাশগুলো তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে নওগাঁর নিহত বাকি পাঁচজনের জনের লাশ একসঙ্গে গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছেছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে লাশগুলো লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে করে নওগাঁয় নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছায়। লাশগুলো গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া। এক নজর দেখতে লাশবাহী গাড়ির পাশে ভিড় করতে থাকেন নিহতের স্বজন এবং স্থানীয় লোকজন। এ সময় স্বজনদের কাঁদতে দেখা যায়।
গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের মানফুহা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যেখানে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় নয়জনের লাশ ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে শনাক্ত করে দেশে আনা হয়েছিল। বাকি সাতজনের শরীর আগুনে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। গত ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। এই কারণে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় লাশগুলো প্রথমে সড়কপথে রিয়াদ থেকে জেদ্দায় নেওয়া হয়। এরপর জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হয়। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের বাড়িই নওগাঁ জেলায়। গত ২৭ আগস্ট সাতজনের লাশ গ্রামের বাড়ি এসেছিল। আজ বাকি পাঁচজনের লাশ এলো। নিহত পাঁচজন হলেন- নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী। গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ, সৌদি আরবের কাউন্সেলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে লাশগুলো শনাক্তের তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড ১৬ জন বাংলাদেশি কর্মী মৃত্যুবরণ করেন। এর মধ্যে গত ২৭ আগস্ট নয়জনের লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাতটি লাশের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লাশগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, 'লাশগুলো বিনা খরচে দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছে সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।'