ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

শহিদ হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার

শহিদ হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানি বৃহস্পতিবার

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুইদিন সময় নিয়েছে বাদীপক্ষ। এখন এই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানি হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি)। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বাদীপক্ষের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ?ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানির এ দিনধার্য করেন। বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল বাদীপক্ষে তিন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য বাদীপক্ষ থেকে সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত আগামী বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র গ্রহণ বিষয়ে শুনানির দিন রাখেন। বাদীপক্ষে নিয়োগ পাওয়া তিন আইনজীবী হলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার, ব্যারিস্টার এস এম মইনুল করিম ও মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল। শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, শহিদ ওসমান হাদি বলতেন, শত্রুর সঙ্গেও তিনি ন্যায়বিচার চান। তার এই কথা মাথায় রেখে তারা মামলার অভিযোগপত্র নিয়ে আরও পর্যালোচনা করতে চান। তারা চান, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান। মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তিনি আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তারা দুইদিন সময় নিয়েছেন। এই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আপত্তি আছে কি না, সে বিষয়ে তারা ১৫ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত জানাবেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে মোট ১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ঘটনার ২৪ দিনের মাথায় ৬ জানুয়ারি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা-পরিকল্পনায় ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলি করেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ। গুলি করার সময় ফয়সাল করিমকে বহনকারী মোটরসাইকেলটির চালক ছিলেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন। এই তিন আসামির কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তারা পলাতক। তারা পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আরও তিন আসামি পলাতক। তারা হলেন ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি মুক্তি মাহমুদ, তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও ফিলিপ স্নাল। অভিযোগপত্রভুক্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরিফ ওসমান হাদি গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটর দিকে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলি লাগে। তিনি মারাত্মক জখম হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় গত ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।

আদালত প্রাঙ্গণে পলককে ডিম নিক্ষেপ ইনকিলাব মঞ্চের : রাজধানীর বাড্ডা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন। শুনানি শেষে পলককে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা তার প্রিজনভ্যানে ডিম নিক্ষেপ ও বিক্ষোভ করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে মধ্য বাড্ডা ইউলুপ এলাকায় গুলিতে গুরুতর আহত হন দুর্জয় আহম্মেদ নামে এক যুবক। গুলিতে তার দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন দুর্জয়। ওই মামলায় গত ২৪ ডিসেম্বর পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই গোলাম কিবরিয়া খান। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখীসহ কয়েকজন আইনজীবী পলকের সাথে সাক্ষাতের অনুমতি চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এদিকে, এদিন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

শুনানি শেষে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সিএমএম আদালতের সামনে অবস্থান করছিলেন। দুপুর দেড়টার দিকে জুনায়েদ আহমেদ পলককে নিয়ে একটি প্রিজনভ্যান কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে রওনা দিলে নেতাকর্মীরা সেটিকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ শুরু করেন। এ সময় তারা ‘লীগ ধর, জেলে ভর’-সহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানটি আদালত এলাকা ত্যাগ করে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত