
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে সার-কীটনাশকের অতিমাত্রায় ব্যবহার হচ্ছে। এখন সে প্রবণতা আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, অনেক আগে কৃষিতে কৃত্রিম সার ও কীটনাশক ব্যবহার হতো না। পরে কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ তখন খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো দরকার ছিল। এরপর থেকে সার ও কীটনাশক ব্যবহার মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। আর এর কারণে নিরাপদ খাদ্য কমেছে। পশুপাখি-মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। উপদেষ্টা বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে পাঙ্গাস বড় করার ক্ষেত্রে হরমোনসহ বেশকিছু পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। সেটা কতোটা ঠিক? খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে, কিন্তু সেইসঙ্গে সেটি নিরাপদ যেন থাকে তাও দেখতে হবে। গতকাল সোমবার জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে খাদ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে চ্যালেঞ্জও বেড়েছে। নানা ধরনের রোগবালাই উঁকি দিচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের ক্রমান্নয়ে উন্নতির দিকে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে খাদ্যের নিরাপদতায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আলী ইমাম মজুমদার বলেন, খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। দিন দিন মানুষ ও প্রাণীকুলের খাদ্য যোগানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপর এসে পড়েছে। আমরা খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তি আনছি, আবার খাদ্যও আমদানি করছি। অনেক সময় খাদ্য আমদানি করতে গিয়েও কিছু বিপদে পড়তে হচ্ছে। খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে খেজুরের রস খেলে নিপা ভাইরাস হতে পারে। অথচ আমাদের ছেলেবেলাও বাদুর ছিল। তখন এ রোগ হয়নি। এসব নানা সমস্যা এখন কেন আমাদের ওপর আপদ হয়ে দাঁড়াল তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে।
প্রতি বছর ২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসটি পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি, সৃস্থ সবল জীবন গড়ি’।
দিবস উপলক্ষে ওই আলোচনা সভার প্রথম পর্বে খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়া।
এ সময় ড. এমদাদ উল্লাহ মিয়ান একটি প্রকল্প দেখতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, একটি প্রকল্প দেখতে গিয়ে দেখি সবজিতে পানির সঙ্গে কীটনাশক মেশানো হচ্ছে। সেই মহিলাকে প্রশ্ন করা হয়, এটা মানুষের জন্য ক্ষতিকর তা জানেন কি না? জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো এটা খাবো না।
সচিব বলেন, উৎপাদন যারা করছে, অন্যরা কী খাচ্ছে সেটি দেখে না। সবসময় আমরা নিজেরা যা খাচ্ছি, তা ভালোভাবে করলেও অন্যদের ব্যাপারে ভাবা হচ্ছে না। কিন্তু এভাবে সার্বিক প্রক্রিয়া অনিরাপদ হচ্ছে। তিনি বলেন, বিএফএসএ ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ করা দরকার। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক গ্যাপ, দেশিয় গ্যাপ ও সাধারণ মানুষের খাদ্য উৎপাদনসহ আমাদের তিনটি স্তরে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে মনযোগ দিতে হবে।
তা নাহলে আমরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বো। এ সময় খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার বলেন, খাদ্যের সঙ্গে খাদ্যের নিরাপত্তা দরকার। বিশ্বের ১০ ভাগের এক ভাগ লোক খাদ্যজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
কৃষক থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন হতে হবে। খাদ্য সচিব বলেন, থাইল্যান্ডে শিশুদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিতে ইউনিয়নভিত্তিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।
তাতে পরবর্তীতে দেখা যায় দেশটি ৩০ শতাংশ এগিয়ে গেছে। আমাদের এমন সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা দরকার।