
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় চার জন বাংলাদেশি প্রবাসী আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার কুয়েত বিমানবন্দরে সংঘটিত এই হামলার খবর গত রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, ড্রোন হামলার সময় বিস্ফোরণে একজন প্রবাসীর হাঁটুতে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং বাকি তিন জন কাচের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে জখম হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত বাংলাদেশিদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-আমিনুল ইসলাম: গ্রাম- দৌলতপুর, থানা- নবীনগর, জেলা- ব্রাহ্মণবাড়িয়া; রকিবুল ইসলাম: গ্রাম- ভুলবাড়িয়া, থানা- সাথিয়া, জেলা- পাবনা; মাসুদুর রহমান: গ্রাম- লতিফপুর, থানা- বেগমগঞ্জ, জেলা- নোয়াখালী; দুলাল মিয়া, গ্রাম- পাথালিয়াকান্দি, থানা- হোমনা, জেলা- কুমিল্লা।
কাজাখস্তানের আলমাতি শহরে আটকা পড়েছেন ১৬ বাংলাদেশি:
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার কারণে কাজাখস্তান ভ্রমণে গিয়ে আটকে পড়েছেন ১৬জন বাংলাদেশি। ২৮ ফেব্রুয়ারি আলমাতি (পূর্বের নাম আলমা-আতা) থেকে তাদের ফেরার কথা থাকলেও ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় বিমান বন্দরেই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে ভ্রমণকারী দলটি। ২৩ ফেব্রুয়ারি এয়ার এরাবিয়ায় করে দুবাই হয়ে কাজাখস্তান ভ্রমণে যায় ১৬ সদস্যের ওই বাংলাদেশি নাগরিক। প্রায় ৫দিনের ভ্রমণ শেষে তাদের দেশে ফেরার কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার। কিন্তু একই দিন ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ভ্রমণকারী সব ফ্লাইটই বাতিল করা হয়েছে। আলমাতি থেকে ১৬জনের এই গ্রুপের সদস্য আবদুল্লাহ আশিক জানিয়েছেন, ‘আমরা ১৬ জন (গ্রুপ ট্যুর নিয়ে) বর্তমানে কাজাখস্তানের আলমাতি শহরে অবস্থান করছি। গত শনিবার কাজাখস্তান সময় বিকাল সোয়া ৩টায় আলমাতি থেকে বাংলাদেশে ফেরার ফ্লাইট ছিল, এয়ার এরাবিয়ায়। ফ্লাইট নম্বর: এ৯ ৯২৫২। ফ্লাইটটি শারজাহ হয়ে ঢাকা ফেরার কথা ছিল।’
‘কিন্তু ইরানের সাথে আমেরিকা ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে আমাদের ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইন্স থেকে আমাদেরকে একদিনের জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করেছে। আমরা একন সেই হোটেলে অবস্থান করছি। একদিন পর আমরা কিভাবে, কোথায় থাকবো- তার কিছুই জানি না। এই অচলাবস্থা কতদিন থাকে তাও তো অনিশ্চিত। এয়ার এরাবিয়া কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে, অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।’
আবদুল্লাহ আশিক আরও জানিয়েছেন, এয়া এরাবিয়া তাদেরকে একদিনের হোটেল সুবিধা দিচ্ছে। এরপর নিজেদের করচে অবস্থান করতে হবে। ‘এখানে সর্বনিম্ন যে ভাড়া, তা বাংলাদেশি টাকায় ৫ হাজারের নিচে নয়। সে সঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও জনপ্রতি দিনে এক হাজার টাকার কম নয়। সবার কাছে টাকা-পয়সাও শেষ হয়ে আসছে। আমাদের সরকারের কাছে অনুরোধ করবো, যেন আমাদেরকে এখান থেকে বের হওয়ার জন্য একটা পথ তৈরি করে দেন।’
রাশেদুল আওয়াল নামে একজন ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, ‘এখানে কাজাখস্তানের যে কন্সুলেট অফিস আছে, তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাদের ওখান থেকে আমরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে কোন ধরনের কোন ইনফরমেশন পাইনি এবং সাড়া পাচ্ছি না। পরবর্তীতে এখান থেকে যে উজবেকিস্তানের এম্বাসি আছে তাদের সাথেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু তারাও আমাদেরকে কোন ধরনের ইনফরমেশন দিতে পারেনি বা আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারেনি। অর্থ্যাৎ কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু ঘুরতে এসেছি এবং ট্যুরের শেষ পর্যায়ে, আমাদের কাছে টাকা-পয়সাও কমে আসতেছে। জানিনা এখানে কয়দিন বা কিভাবে অবস্থান করতে হবে বা কতদিন থাকবো। এয়ারলাইন্স থেকেও আমাদেরকে এখানে দিয়ে যাওয়ার পরে তাদের তরফ থেকে কেউ আমাদের সাথে এখন পর্যন্ত কোন যোগাযোগ করেনি।’
‘এখন আদৌ আমরা এখানে কয়দিন থাকতে পারব বা থাকতে পারবো না বা যাওয়ার সময় আমাদেরকে কোন ধরনের ঝামেলা করা হবে কিনা- তার কোনো বিছুই আমরা জানি না। আমাদের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন এই দেশের সরকার আমাদের ভিসা এক্সটেন্ড করবে কিনা বা যদি কোন ধরনের হ্যাসল হয়, এই মুহূর্তে আমরা কারো সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করতে পারছি না।’
সবার সহযোগিতা কামনা করে রাশেদুল আওয়াল বলেন, ‘আমরা এই মুহূর্তে সবার সহযোগিতা কামনা করছি, যাতে বাংলাদেশ সরকার আমাদের জন্য কোনো একটা ব্যবস্থা করে যাতে আমরা সবাই সবার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারি, কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হই।’
শাহজালালে আটকেপড়া যাত্রীদের সেবায় হটলাইন চালু:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যগামী আটকেপড়া যাত্রীদের ২৪ ঘণ্টার সেবা দিতে ‘হটলাইন’ (১৬১৩৫) (টোল ফ্রি) চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫৪টি ফ্লাইট গতকাল শনিবার থেকে আজ রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অনেকে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আটকেপড়া যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আটকেপড়া অনেক যাত্রী থাকাণ্ডখাওয়ার সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, তারা এ ধরনের অভিযোগ এখনো পাননি।