
রোজার মাসে ইফতার মানেই খেজুর, ছোলা, বেগুনি, হালিম; যেন চেনা স্বাদের পুনরাবৃত্তি। কিন্তু প্রতিদিনের আয়োজনে যদি যোগ হয় ছোট ছোট নতুনত্ব, তাহলে পুরো দৃশ্যটাই বদলে যেতে পারে। খুব জটিল কিছু নয়, সাধারণ উপকরণেই তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি ভিন্নধর্মী পদ, যা ইফতারের টেবিলে এনে দেবে সতেজতা, রং ও বৈচিত্র্য।
খেজুর ইফতারের ঐতিহ্যবাহী অংশ। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলকে একটু ভিন্নভাবে পরিবেশন করলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি দেখতেও আকর্ষণীয় লাগে। বীজ ফেলে কুচি করা খেজুরের সঙ্গে ঘন টকদই মিশিয়ে নিন। চাইলে সামান্য মধু ও ভাজা বাদাম কুচি যোগ করতে পারেন। ছোট কাপে স্তর করে সাজিয়ে ওপরে ডালিমের দানা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। ঠান্ডা এই পদ রোজা ভাঙার পর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাবে।
ইফতারে ভাজাপোড়ার বিকল্প হিসেবে হালকা; কিন্তু পুষ্টিকর কিছু চাইলে সবজি-চিকেন রোল ভালো পছন্দ। সেদ্ধ বা গ্রিল করা মুরগির মাংস কুচি করে নিন। সঙ্গে পাতাকপি, গাজর ও শসা সরু করে কেটে সামান্য লবণ-গোলমরিচ মেশান। রুটি বা পরোটার ওপর মিশ্রণ ছড়িয়ে রোল করে নিলেই তৈরি। ইচ্ছা করলে হালকা দই-চাটনি ব্যবহার করা যায়। কম তেলে তৈরি এই পদ ইফতারের ভার কমাবে।
সাধারণ ছোলা ভুনা প্রায় প্রতিদিনই থাকে। সেটিকে একটু বদলে বানানো যায় ডাল-চাট। সেদ্ধ ছোলা বা মুগডালের সঙ্গে টমেটো, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতা কুচি মেশান। সামান্য লেবুর রস ও ভাজা জিরা গুঁড়া দিলে স্বাদ বাড়বে। ওপর থেকে সামান্য দই ও চাট মসলা ছড়িয়ে পরিবেশন করলে একঘেয়েমি কেটে যাবে।
শুধু লেবুর শরবত নয়, মৌসুমি ফল দিয়ে বানানো ঠান্ডা পানীয় ইফতারের টেবিলে রঙিন আবহ আনে। তরমুজ বা আম ব্লেন্ড করে সামান্য চিনি বা মধু মিশিয়ে নিন। বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে পুদিনা পাতা যোগ করলে বাড়তি সতেজতা পাওয়া যায়।
ভাজা ছাড়া ইফতার যেন অসম্পূর্ণ! তবে একটু স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানানো যায় আলু-পালং মিনি চপ। সেদ্ধ আলুর সঙ্গে কুচানো পালং শাক, পেঁয়াজ ও মসলা মিশিয়ে ছোট আকারে গড়ে নিন। হালকা তেলে অল্প সময় ভেজে বা ওভেনে বেক করে পরিবেশন করুন। ছোট আকারের কারণে খেতেও সুবিধা, দেখতেও সুন্দর।
ইফতারের টেবিলে বড় আয়োজনের দরকার নেই, এমন ছোট ছোট অভিনব পদই এনে দিতে পারে নতুনত্ব। স্বাদের সঙ্গে পুষ্টির ভারসাম্য রাখলে রোজার মাসে সুস্থতাও বজায় থাকবে শেষ পর্যন্ত।