
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন সেবায় নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিভিন্ন সময়ে নাগরিকরা এনআইডি সংশোধনে আবেদন করে থাকে ইসিতে। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সংশোধনের জন্য অপেক্ষমান অবস্থায় আছে এক লাখ ৩০ হাজার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) আবেদন। গতকাল বুধবার ইসির এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
তারা জানায়, আমাদের সার্ভারে এক লাখ ৩০ হাজার সংশোধন আবেদন পেন্ডিং আছে। এ আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি কীভাবে করা যায় তা নিয়ে গতকাল মাসিক সমন্বয় সভা করা হয়।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আমি যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২ লাখ এনআইডি সংশোধন আবেদন নিষ্পত্তি করেছি। আমার সকল কর্মকর্তাদের সহোযোগিতায় এটি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের কারণে সংশোধন কার্যক্রম স্থগিত করার আগ পর্যন্ত পেন্ডিং আবেদন ছিলো ৮০ হাজারের মতো। যা এ কয়েক মাসে বৃদ্ধি পেয়ে এক লাখ ৩০ হাজার হয়েছে। অতিদ্রুত এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে।’
১৮ হাজার প্রবাসীর এনআইডি প্রস্তুত, পাঠানো হয়েছে বিদেশে : এর আগে গত সোমবার ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে গত ৩ মার্চ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমের আওতায় ১৮ হাজার ৮৬৫ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রস্তুত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৮৫৩টি এনআইডি কার্ড এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ১৪টি দেশের মোট ২৪টি স্টেশনে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত (আবুধাবি ও দুবাই), সৌদি আরব (রিয়াদ ও জেদ্দা), কুয়েত (কুয়েত সিটি), কাতার (দোহা), ওমান (মাস্কাট)। ইউরোপের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য (লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম), ইতালি (রোম ও মিলান)। এশিয়া ও ওশেনিয়ার মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া (কুয়ালালামপুর), জাপান (টোকিও), অস্ট্রেলিয়া (ক্যানবেরা ও সিডনি), মালদ্বীপ (মালে)। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র (নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলেস), কানাডা (অটোয়া ও টরন্টো) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (প্রিটোরিয়া)।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮২ হাজার ৯৭৬ জন ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন। এর মধ্যে অনুমোদিত আবেদন ৩৯ হাজার ৭টি, বাতিল করা আবেদন ১৮ হাজার ৪৫৪টি, তদন্তাধীন ৩ হাজার ৬৬টি। প্রিন্টের অপেক্ষায় ৫ হাজার ৩৯৮টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭৬টি। এর মধ্যে ৯ হাজার ১০ জনের এনআইডি এরইমধ্যে প্রিন্ট করা হয়েছে। আবেদনের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য; দেশটিতে ১৫ হাজার ৩৪৯টি আবেদনের বিপরীতে ৪ হাজার ২৪৪টি এনআইডি প্রিন্ট করে দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, ১১৫টি। তবে ওই দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোনো এনআইডি প্রিন্ট করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এবং এনআইডি সংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। নতুন তালিকা অনুযায়ী দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।