ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

ক্যাপসিকামের বাণিজ্যিক চাষে পাল্টে গেছে কৃষিচিত্র

ক্যাপসিকামের বাণিজ্যিক চাষে পাল্টে গেছে কৃষিচিত্র

মাঠের পর মাঠ সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লাল ও সবুজ রঙের ক্যাপসিকাম। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার উর্বর মাটিতে এখন দোল খাচ্ছে উন্নত জাতের ‘সুইট বিউটি’ ক্যাপসিকাম। এক সময় যা ছিল শুধু বিলাসবহুল হোটেলের সালাদ কিংবা বিদেশি পদের অনুষঙ্গ, সেই ভিনদেশি সবজি এখন স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্য বদলের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রথমবারের মতো এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে শুরু হওয়া এই চাষাবাদে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

‘কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর অধীনে মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিস এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টি ইউনিয়নে একযোগে শুরু হয়েছে উচ্চফলনশীল সুইট বিউটি জাতের ক্যাপসিকাম আবাদ। বিশেষ করে মুরাদনগর সদর, নবীপুর পশ্চিম, নবীপুর পূর্ব, বাংগরা পূর্ব, ধামঘর, জাহাপুর, বাবুটিপাড়া ও আকবপুর ইউনিয়নের মাঠগুলোতে এখন ক্যাপসিকামের সমারোহ। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে আধুনিক পলি মালচিং পেপার ব্যবহার করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

ক্যাপসিকাম চাষে আর্থিক লাভের হিসাবটা কৃষকদের জন্য বেশ চমকপ্রদ। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এক বিঘা জমিতে সুইট বিউটি জাতের ক্যাপসিকাম আবাদ করতে বীজ, সার এবং মালচিং পেপারসহ খরচ হয় মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়ায় একই জমি থেকে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকার ফলন পাওয়া সম্ভব। অর্থাৎ, প্রথাগত ফসলের তুলনায় এই ‘হাই ভ্যালু’ ক্রপে মুনাফার পরিমাণ প্রায় তিন থেকে চার গুণ বেশি। ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আমির হোসেন এবারই প্রথম তার ১ বিঘা জমিতে এই উচ্চমূল্যের ফসল চাষ করেছেন। তার মাঠে এখন সুইট বিউটির বাম্পার ফলন। আমির হোসেন উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, “শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম; কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, কীটনাশক আর মালচিং পেপার পেয়ে সাহস পাই। এখন গাছে প্রচুর ফল এসেছে এবং মানও খুব ভালো। বাজারে এই জাতের ব্যাপক চাহিদা থাকায় আশা করছি খরচ বাদে লাখ টাকার ওপরে লাভ করতে পারব।’

মুরাদনগর উপজেলা কৃষি অফিসার পাভেল খান পাপ্পু এই নতুন সম্ভাবনা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি জানান, ‘সুইট বিউটি জাতের ক্যাপসিকাম যেমন সুস্বাদু, তেমনি এর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম রয়েছে। আমরা এবারই প্রথম মুরাদনগরে সরকারিভাবে এই আবাদ করিয়েছি। কৃষকদের অভাবনীয় সাড়া এবং বর্তমান ফলন দেখে আমরা নিশ্চিত যে, আগামী মৌসুমে এই উপজেলায় ক্যাপসিকাম চাষের পরিধি কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মুরাদনগরের মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় ক্যাপসিকামের মতো অর্থকরী ফসলের সম্প্রসারণ শুধু কৃষকের ভাগ্যই বদলাবে না, বরং কুমিল্লার সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে যোগ করবে নতুন মাত্রা। স্বল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় শিক্ষিত যুবকরাও এখন এই আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত