
আট বছর আগে ঢাকার ইব্রাহিমপুরে এক নারীকে ধর্ষণের পর সন্তান জন্মের ঘটনায় আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান বৃহস্পতিবার আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা ভুক্তভোগীকে দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. এরশাদ আলম জর্জ বলেন, ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করে হেফাজতে নেবেন।’ ওই সম্পত্তি থেকে ভিকটিমের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবেন।
‘শিশুটির বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণ-পোষণ দিতে হবে। আসামির সম্পত্তি থেকে ভরণ-পোষণের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।’ রায় শেষে জাহাঙ্গীরকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জাহাঙ্গীর হোসেন ভুক্তভোগী নারীর পূর্ব পরিচিত। ঘটনার ১১ মাস আগে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে জাহাঙ্গীর তার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়।
২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর কাফরুল থানাধীন ইব্রাহিমপুরের ওই নারীর বাসায় যান এবং তাকে ধর্ষণ করেন। আশপাশের লোকজন বিষয়টি জেনে গেলে আসামি ওই নারীকে বিয়ে করার আশ্বাস দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকেন। ২০১৯ সালের ওই নারী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। আসামিকে বিষয়টি জানালে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন।
এ ঘটনায় ওই নারী কাফরুল থানায় মামলা করেন। পরে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তার পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে নবজাতক ও ভিকটিমের ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, জাহাঙ্গীর হোসেন ওই নারীর গর্ভজাত নবজাতক পুত্র সন্তানের পিতা। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের এসআই মোসা. রেহানা সুলতানা অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আদালত অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরের বিচার শুরু করে। বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করা হলো।