ঢাকা বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

‘সোনার দানা’ জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে

‘সোনার দানা’ জৈব সারের ব্যবহার বাড়ছে

দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদিত জৈব সার ‘সোনার দানা’ কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং ফসলের অধিক ফলনের কারণে দিন দিন এই সারের চাহিদা বাড়ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, সোনার দানা ব্যবহার করে ধান, আখ, পেঁপে, বিভিন্ন সবজি, পান এবং ফুল চাষে আগের তুলনায় ফলন অনেক বেড়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে দর্শনা কেরু চিনিকলে প্রেসমাড ব্যবহার করে ‘সোনার দানা’ নামে জৈব সার উৎপাদন শুরু হয়। শুরু থেকেই এটি জমির গুণমান উন্নত করতে সহায়তা করছে এবং বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কেরু চিনিকলের উৎপাদন ও প্ল্যান্ট ম্যানেজার জাকির হোসেন বলেন, ?‘২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমরা ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৫ মেট্রিক টন জৈব সার উৎপাদন করেছি এবং প্রায় ৭৮ লাখ টাকা লাভ করেছি। একই অর্থবছরে মোট ১৬৩০ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করা। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ১৩৬ মেট্রিক টন হারে সার উৎপাদন হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাব্বিক হাসান বলেন, ‘সোনার দানা ব্যবহার করে ধান, আখ, পেঁপে, বিভিন্ন সবজি এবং ফুলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধীরে ধীরে এই জৈব সার দর্শনার সীমা পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বৃদ্ধি করে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাই। পাশাপাশি, এ উদ্যোগ এলাকার বেকার সমস্যা কমাতেও সাহায্য করবে।

স্থানীয় কৃষক লাভবু মিয়া বলেন, ‘সোনার দানা ব্যবহার করলে ধান ও সবজির ফলন আগের চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে। এটি আমাদের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।’

বর্তমানে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড দেশের বিভিন্ন জেলায় জৈব সারের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের জৈব সার কৃষির টেকসই উন্নয়ন এবং রাসায়নিক সার কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত