
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ বলেছেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ফসল বিমা (ইনস্যুরেন্স) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বন্যা বা অন্য কোনও দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে বিমা সুবিধার আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে; যাতে কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত না হন। গতকাল বুধবার কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং তা দিয়ে আগামী কয়েক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশের কোনও মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে না, এমন নিশ্চয়তা দিতে সরকার কাজ করছে।
আমিন উর রশীদ বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন।
মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমামণ্ডমুয়াজ্জিনদের সম্মানীসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। শুরুতে এসব উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু আমাদের দল ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।
কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কৃষি খাতে প্রণোদনা, সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা সহজ করার মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ করেছে।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক ভূঁইয়া স্বপন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আমড়াতলী ইউনিয়নের ১ হাজার ৮৭৯ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।