ঢাকা সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

স্ট্রবেরি চাষে পাল্টে গেছে সিরাজগঞ্জের কৃষিচিত্র

স্ট্রবেরি চাষে পাল্টে গেছে সিরাজগঞ্জের কৃষিচিত্র

সিরাজগঞ্জে এবার স্ট্রবেরি ফল বাগান চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ফলের বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। লাভজনক এ চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থনে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে এ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ বলছেন, এ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শস্যভান্ডার খ্যাত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে এ সুস্বাদু ফল বাগান চাষ হয়েছে এবং এ জেলার কাজিপুর, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ সদর ও চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ৪ হেক্টর জমিতে এ ফল বাগান চাষ হয়েছে। এ বাগান চাষিরা বলছেন, রাজশাহী, জয়পুরহাট, চাঁপাই ও যশোর থেকে এ চারা সংগ্রহ করতে হয় এবং নভেম্বর মাসের মধ্যেই এ স্ট্রবেরি ফলের চারা রোপণ করা হয়। বিশেষ করে উচু, দোআঁশ ও বালি জাতীয় জমিতে এ চাষাবাদ ভালো হয় এসব চারার মধ্যে রয়েছে দেশি ও হাইব্রিড জাতের। এ ফল চাষাবাদে জমির ১ হাত পরপর উচুঁ আকার সৃষ্টি করতে হয় এবং এ উচুঁতেই ফলের চারা রোপণ করা হয়। প্রায় ৩ মাস পর এ বাগানে ফল উৎপাদন শুরু হয় এবং এ বাগানের আয়ু প্রায় ৬ মাস। পরবর্তীতে আবার নতুন করে এ ফল বাগান শুরুতে হয়। এবার এ ফল বাগান চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। খরচ কম লাভ বেশি এ ফল বাগান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকেরা। এরমধ্যে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বোয়ালিয়া পাগলা মন্ডলপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক জহুরুল ইসলাম (৬১) প্রায় ১৫ বছর ধরে লাভজনক এ ফল বাগান চাষ করেছেন।

এবার তিনি প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে দেশি ও হাইব্রিড জাতের স্ট্রবেরি ফল বাগান চাষ করেছেন। প্রতিদিন ৪/৫ জন শ্রমিক এ বাগান পরিচর্যা করছে এবং পাখির উপদ্রব ঠেকাতে নেট ব্যবহার করতে হচ্ছে। জানুয়ারী মাসের শেষ দিকে এ বাগান থেকে ফল উৎপাদন শুরু হয়েছে। প্রথমে এ ফল ১ হাজার টাকা কেজি এবং পরে ৮০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি করে। বর্তমানে ৫০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। বেশির ভাগ তার বাগান থেকেই পাইকারিরা এ ফল ক্রয় করে নিয়ে যান। এরমধ্যেই খরচ বাদে প্রায় ৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা হয়েছে এবং আরো প্রায় ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা হবে। তিনি আরও বলেন, এ বাগান চাষে আমার ছেলে উপ-সহকারী কৃষি অফিসার গোলাম সরোয়ার যথানিয়মে পরামর্শ দিয়ে থাকে এবং তার পরামর্শে এলাকার অনেক কৃষক এ ফল বাগান চাষ শুরু করেছে। আগামীতে লাভজনক এ চাষাবাদ আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত