ঢাকা বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

কুষ্টিয়ার চরে মিষ্টি কুমড়ার ফলনে খুশি কৃষক

কুষ্টিয়ার চরে মিষ্টি কুমড়ার ফলনে খুশি কৃষক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার চরাঞ্চলে চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়ার অধিক ফলনে খুশি কৃষকরা। কুষ্টিয়ার পদ্মানদীবেষ্টিত দৌলতপুর, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার চরাঞ্চলের দিগন্তজোড়া মাঠে এখন মিষ্টি কুমড়া সংগ্রহের মহোৎসব চলছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির প্রসারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অধিক ফলনে খুশি কৃষকরা।

পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের উর্বর মাটি যেন প্রকৃতির আরেক বিস্ময়, কোন কিছুর কমতি নেই তার মাঝে, কৃষককে দু’হাত ভরে উজাড় করে দিতে যেন সবসময় উন্মুখ হয়ে থাকে এ মাটি। বিশাল, বিস্তৃত চরাঞ্চলে এখন সবুজের সমারোহ আর ব্যাপক সম্ভাবনা বিরাজ করছে। গতকাল মঙ্গলবার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর বাজুমারা, বাহিরমাদিরচর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এ এলাকাটি এখন পদ্মার বুকে একটি বিশাল সবজি বিপণন কেন্দ্রে (বিজনেস হাব) পরিণত হয়েছে। কুষ্টিয়া শহর, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঘোড়ার গাড়ী, নদীর এপারে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ গ্রামে ট্রাক নিয়ে সরাসরি কৃষকের জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

রাজশাহীর সাহেব বাজার থেকে আসা সবজি ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে মিষ্টি কুমড়া বাজারে আসার আগেই কুষ্টিয়ার কুমড়া সরবরাহ শুরু হয়। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় তিনি প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আর গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচসহ মোকামে পৌঁছাতে কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে ২৮ টাকা। একইভাবে ঢাকা কাওরান বাজার থেকে আসা ব্যবসায়ী লিটন জানান, তিনি আকারভেদে ২২ থেকে ২৫ টাকা দরে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে অগ্রিম চুক্তিতে জমি কিনেছেন। প্রতিকাঠা (১০ শতাংশ) জমিতে ১ টন ফলন হলে হাজার টাকা লাভ থাকছে। এখান থেকে সংগৃহীত কুমড়া ঝিনাইদহ, বগুড়া, নাটোর ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।

চর বাজুমারার সফল কৃষক জমির সিকদার জানান, চলতি বছর তিনি ১০০ কাঠা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন এবং এরইমধ্যে ১৫ টন বিক্রি করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বাজারমূল্য অনেক বেশি হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। চরাঞ্চলে উৎপাদিত এই মিষ্টি কুমড়া বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ থাকলে ভালো হত। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় মিষ্টি কুমড়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (উদ্যান) ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া জানান, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ৭২৯ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া আবাদ হয়েছিল, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩৬ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু চরাঞ্চলেই চাষ হয়েছে ৩৭০ হেক্টর জমিতে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ফসলটি কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয়তা পায়। কৃষকদের সহায়তা হিসেবে শুধু বীজ নয়, বরং নিরাপদ ফসল উৎপাদনে ফেরোমন ফাঁদ ও ইয়েলো ট্র্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে কৃষি বিভাগ মনে করছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত