ঢাকা শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

লিচুর বাগানে ‘মধু বিপ্লব’

লিচুর বাগানে ‘মধু বিপ্লব’

দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার লিচুর বাগান থেকে দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৩০ মেট্রিক টন মধু আহরণের পাশাপাশি লিচুর ফুলে মৌমাছির পরাগায়নের মাধ্যমে কয়েক শতাংশ বেশি লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি লিচুর মুকুলে মুকুলে পরাগায়নের ফলে এ বছর বাগানের প্রতিটি গাছেই গত বছরের তুলনায় বেশি লিচু ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা। লিচু বাগান পরিচর্যা খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি আশানুরূপ লাভ পাওয়ায় এলাকার অনেকেই আবাদি জমিতে লিচু বাগান গড়ে তুলছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিটি লিচু বাগানেই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছের পাতা। মূলত লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে টাঙ্গাইল নাটর সিরাজগঞ্জ ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌচাষিরা এসে বাগানে ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির মৌমাছির বাক্স বসিয় মৌ চাষ করে মধু সংগ্রহ করছেন। ফরিদুর থেকে মধু সংগ্রহ করতে আসা মৌ চাষি বলেন, আমি প্রতি বছর চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন লিচুর বাগানে মধু সংগ্রহ করতে আসি। প্রতেকই বছরে লিচুর ফুল থেকে অধিক পরিমাণে মধু সংগ্রহ করি। এবার শুরু থেকে বৃষ্টি হওয়ায় মধু সংগ্রহ কম হয়েছে। তবে এবার লিচু ফুলের মধুর দামটা বেশ ভালো পাচ্ছি। আশা করছি মধু সংগ্রহ কিছুটা কম হলের মধুর বাজার ভালো থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব ।

টাঙ্গাইল থেকে আসা মৌচাষিরা বলেন, বৈজ্ঞানিক উপায়ে উদ্ভাবিত মৌচাষ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। বাগানে ২ শতাধিকের বেশি ব্রড ও নিউক্লিয়াস নামের ছোট-বড় কাঠের বাক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বাক্সে একটি রাণী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছিসহ অসংখ্য এপিস মেলিফেরা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মণ্ডম গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় লিচুর মুকুলে। পরে মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে জমা করে। আমরা মৌয়ালরা প্রতি ৭ দিন পর পর টানা ৩ দিন বাগানের বাক্স হতে দিন প্রতি ৩ হতে ৫ মণ মধু সংগ্রহ করে থাকে। আউলিয়া পুকুর ইউনিয়নের লিচু চাষি বলেন, আমার বাগানে প্রায় দুই শতাধিক মত বিভিন্ন জাতের লিচুর গাছ রয়েছে এবার লিচুর ফুল বেশি হয়েছে। আশ করছি গত বছরের তুলনায় বেশি ফল পাব কারণ এবার মৌ চাষিরা বাগানে মধু সংগ্রহ করতে আসছে। কৃষি অফিসের কর্মকতার বলেছেন যে লিচু গাছে মৌমাছির আগমন বেশি হয়, সে গাছের মুকুলে পরাগায়ন ভালো হয়। ফলে ওই গাছের বাগানে লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা থাকে।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি অফিসার জোহরা সুলতানা বলেন, লিচু বাগানে মধু উৎপাদনে মৌখামারি ও লিচু বাগান মালিকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। মৌ চাষিরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মধু সংগ্রহ করতে চিরিরবন্দরের বিভিন্ন লিচু বাগানে প্রায় চার শতাধিক মৌ বক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছে।

তিনি আরও বলেন, লিচু ফুলে মৌমাছি বসলে পরাগায়ন ভালো হয়, রোগবালাইও অনেকটা কম হয়। সে ক্ষেত্রে অনেক বাগানে গুটি আসার পর কীটনাশক দরকার হয় না। এতে ঐ লিচু-বাগানে বাম্পার ফলন হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে। এতে লিচুর যেমন বাম্পার ফলন হয়, তেমনি মধুও উৎপাদন হয় ভালো।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত