
দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় ধর্মকে পুঁজি করে কোনো ধরনের বিভাজন তৈরির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশে কিছু সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে সামনে রেখে স্বার্থের রাজনীতি করতে চায়। তবে বাংলাদেশের হাজার বছরের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধর্ম নিয়ে বিভাজন তৈরির কোনো সুযোগ নেই।
গতকাল রোববার রাজধানীর ভাটারায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এই ভূখণ্ডে হাজার হাজার বছর ধরে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দের মধ্যে শান্তিতে বসবাস করছি। ধর্মবিশ্বাস একান্তই মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়, এটাকে আমরা রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে চাই না। আমরা আমাদের প্রিয় দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবেই বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
কিছু রাজনৈতিক দলের নেতিবাচক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, “কিছু অশুভ শক্তি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাদের মাঝে অনৈক্য ও বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা করে। এমনকি কোনো কোনো দল মহান মুক্তিযুদ্ধকেও অস্বীকার করতে চায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের উচিত- এই বৈচিত্র্যের মাঝে নিজেদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ আরও বাড়িয়ে তোলা।” দেশে চলমান অনাকাঙ্ক্ষিত জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জটিল পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট এই সংকটের মধ্যেও বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেশের বাইরে থেকে দ্রুত জ্বালানি আমদানির সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বারবার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করছেন যে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ আছে। এরপরও দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাইকে করে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া যাবে না।’ অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ‘বিএনপি তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে আপনাদের অকুণ্ঠ সহায়তায় সরকার গঠন করেছে, এজন্য আপনাদের সকলের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। সত্য ও ন্যায়কে সামনে রেখেই আমরা দেশকে আলোর পথে এগিয়ে নিয়ে যাব।’