ঢাকা বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

‘খালেদা জিয়া আপনাদের দায়মুক্ত করতে সরকারের অংশ করেছেন’

‘খালেদা জিয়া আপনাদের দায়মুক্ত করতে সরকারের অংশ করেছেন’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সংবিধান ছুড়ে ফেলার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় এক নেতার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘এটি সুন্দর করতে বলতে পারলেন, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া আপনাদের নেতাদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দিয়েছিলেন, সেই কথাটা তো আপনারা একবারও বললেন না!’ ‘আপনাদের দায়মুক্ত করবার জন্য সরকারের অংশ করে জাতির কাছে আপনাদের সম্মানিত করেছেন, সে কথা তো একবারও বলেন না!’ যোগ করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বহু আকাঙ্ক্ষিত এই জাতীয় সংসদ, সবার আন্দোলনের ফসল। আপনারাও আন্দোলন করেছেন, আমরাও করেছি। কিন্তু মাঝপথ থেকে আপনারা আমাদের কাছ থেকে চলে গিয়েছিলেন ২০১৪ সালের পরে। ২০১৪ সালের পরে আপনাদের কিন্তু আমরা আর খুঁজে পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে আমরা চারদলীয় জোট, ২০ দলীয় জোট, আমরা কিন্তু একসঙ্গেই ছিলাম। আমরা একে অপরকে কিন্তু বহুভাবে চিনি। একই মিটিংয়ে বসে আন্দোলন করেছি, লড়াই করেছি, সমাবেশ করেছি।

‘আজকে কোনো এক অজানা কারণে আপনারা গুপ্ত হয়ে জুলাই-আগস্টের পরে প্রকাশ্যে এসে জাতির সামনে জুলাই-আগস্টকে বারবার ধারণ করার চেষ্টা করে জাতিকে ভুল বুঝিয়ে জুলাই-আগস্টকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, মনে হয় ১৯৭১ সালে দেশে মুক্তিযুদ্ধই হয়নি! নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনই হয়নি,’ যোগ করেন তিনি।

সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধীদলের ওয়াকআউটের সমালোচনা করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি বসে থাকতেন, রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে কত সুন্দর করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, এটি যদি আপনারা শুনতেন। আপনারা আনন্দ চিত্তে হাসতেন এবং খুশি হতেন। আমি বলবো, এটা আপনাদের দুর্ভাগ্য।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোটে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপতি ওই দলের বিরুদ্ধে কী সুন্দর করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট, আওয়ামী লীগ দুর্নীতিবাজ, আওয়ামী লীগ ভোট চোর।’ এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আমাদের একেবারে জেরবার করে ফেলেছেন এবং অসংখ্য মিথ্যা তথ্য তিনি এখানে এনেছেন।’ ‘আমি অনুরোধ করব, অসত্য কোনো তথ্য যেন এই মহান সংসদে কেউ পরিবেশন না করেন।’

সবার দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘যে জিনিসগুলো অসত্য, বিভ্রান্তিকর, আমি অনুরোধ করব তা প্রত্যাহার করা হোক।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত