ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সংকটে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য জরুরি

বললেন বদিউল আলম
সংকটে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য জরুরি

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশে ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য জরুরি। আন্তর্জাতিকভাবে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে, তা ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এটি আমাদের সৃষ্টি নয়, কিন্তু এর ভোগান্তি আমাদের সহ্য করতে হবে এবং আমাদেরই মোকাবিলা করতে হবে, উত্তরণ ঘটাতে হবে। গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একদিকে বহির্বিশ্বের সংকট আমাদের ওপর প্রভাব ফেলছে, অন্যদিকে আমরা নিজেরাই নতুন সংকট তৈরি করছি— যেমন গণভোটের রায় নস্যাৎ করা কিংবা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকারী অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার চেষ্টা। দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এই সমস্যা বাইরে থেকে সৃষ্টি হলেও আমরা নিজেরাই কিছু অপ্রয়োজনীয় সমস্যা তৈরি করছি।

গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে গণভোট হয়েছে এবং জনগণ যে অনুমোদন দিয়েছে, সেটি শেষ কথা হওয়ার কথা ছিল এবং অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছিল।

সংবিধানের দোহাই দিয়ে আপত্তি তোলাকে ‘খোঁড়া যুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে শাহাবুদ্দিন আহমেদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন- তা কি সংবিধানে ছিল? তিনি আবার ফেরত গেলেন- সেটাও কি সংবিধানে ছিল? তখন ঐক্যমতের ভিত্তিতেই এটি হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তখন কয়েকটি দলের মধ্যে ঐক্যমত হয়েছিল। জাতীয় পার্টি সেই ঐক্যমতের মধ্যে ছিল না। তবুও তিন জোটের রূপরেখার ভিত্তিতে বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়। সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিতও ছিল না; কিন্তু জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছিল।

নোট অব ডিসেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট মানে মাইনরিটি ভিউ বা সংখ্যালঘু মতামত। ১৪ দলের সংসদীয় কমিটিতে ১১ জন সরকারদলীয় ও ৩ জন বিরোধীদলীয় সদস্য থাকলে সিদ্ধান্ত তো সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই হবে। ঐকমত্য কমিশনের মেজরিটি ভিউটাই সিদ্ধান্ত, এবং সেটিই গণভোটে অনুমোদিত হয়েছে। এসব ক্ষণাযুক্তি আমার কাছে বোধগম্য নয়। এসব পদক্ষেপ আমাদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে। তিনি আরও বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে যে ঐক্যের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারী ব্যবস্থা পতন ঘটিয়েছিলাম এবং নতুন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেই ঐক্য আজ ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এই অনৈক্য এবং অহেতুক বিভাজন আমাদের অর্জনকে নষ্ট করে দিতে পারে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সরকার, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ, আল্লাহর ওয়াস্তে জাতির মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করুন। এই ভয়াবহ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। না হলে আমরা আবারও সংকটের দিকে যাব এবং এর ভয়াবহ পরিণতি জনগণসহ ক্ষমতাসীনদেরও ভোগ করতে হবে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কখনও কখনও অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায় ‘দ্য কার্স অব টু থার্ড মেজরিটি’। আমরা কি পুরোনো পথে হাঁটছি, নাকি উল্টো পথে যাচ্ছি, এটা ভাবার সময় এসেছে।

ফরিদুল হকের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- ব্যারিস্টার আবু হেনা রাজ্জাকী, দিলারা চৌধুরী, ফরিদা আখতার, ফাহিম মাশরুর, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সারজিস আলম, সারোয়ার তুষার, জাবেদ রাসিন, মনিরা শারমিন সালেহউদ্দিন সিফাত, আরমান হোসাইন ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত