ঢাকা শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

শ্রীপুরে ইন্দোনেশিয়ান মরিচ চাষে সাফল্য

শ্রীপুরে ইন্দোনেশিয়ান মরিচ চাষে সাফল্য

গাজীপুরের শ্রীপুরে ইন্দোনেশিয়ান জাতের চাপাই কোপাই মরিচের চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন চীনা নাগরিক। ফলন বেশি আর লাভজনক হওয়ায় বাংলাদেশে এ মরিচের সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

প্রায় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি লম্বা প্রচণ্ড ঝাল এ মরিচ উৎপাদিত হয়েছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের হায়েতখারচালা নামে একটি গ্রামে। এক একর জমিজুড়ে মরিচ খেত। প্রথম দেখলে চোখ কপালে উঠে যাবে। দীর্ঘ লম্বা একেকটি গাছে ঝুলে আছে ২০ থেকে ৩০টি মরিচ। ভার রক্ষায় প্রতিটি গাছেই দেওয়া হয়েছে ছোট ছোট খুঁটি। বাংলাদেশের মাটিতে বিস্ময়কর এ সফলতার কাজটি করে দেখিয়েছেন চীনা নাগরিক ছেন জিয়েন গাও। মরিচের নাম চাপাই-কোপাই। এ মরিচ ইন্দোনেশিয়ায় বেশ জনপ্রিয়।

আর চায়নিজ রেস্তোরাঁগুলোতে রয়েছে এই মরিচের ব্যাপক চাহিদা। ফলে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ছেন জিয়েন গাও এ মরিচ চাষের উদ্যোগ নেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামের প্রকৌশলী আলম প্রধানের বাড়ির পাশে সমতল জমিতে সারিবদ্ধভাবে লাগানো মরিচের গাছগুলোতে প্রচুর মরিচ ঝুলে রয়েছে। প্রতিটি গাছে দুই থেকে তিন কেজি মরিচ ধরেছে। ভার বেশি হওয়ায় গাছগুলো বেঁধে রাখা হয়েছে শক্ত খুঁটি দিয়ে। গাছে অনেক মরিচ ইতিমধ্যে পেকে লাল রংধারণ করেছে। পরিপক্ব মরিচগুলো সংগ্রহ করছেন ছেন জিয়েন গাওসহ কয়েকজন দেশীয় শ্রমিক। মরিচ খেতের পরিচর্যাকারী শ্রমিক আরিফ হোসেন বলেন, চায়নিজ এই নাগরিক তাদের দেশের যত ধরনের শাকসবজি রয়েছে, সেগুলো এখানে চাষ করেন। সবচেয়ে বেশি চাষ করেছেন চাপাই কোপাই মরিচ। ভালো ফলন হয়েছে। ছোট্ট একটি জায়গায় মরিচ ওঠালে দুই-আড়াই মণ হয়ে যায়। ভিন্ন এ মরিচ চাষের খবর বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উপজেলাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মরিচ খেত দেখতে প্রতিদিন অনেক লোকজন আসে।

উদ্যোক্তা ছেন জিয়েন গাও বলেন, বাংলাদেশের মাটি খুবই উর্বর। এখানে শাকসবজি চাষ করে আমরা লাভবান হয়েছি। বাংলাদেশে বসেও টাটকা শাকসবজি পাচ্ছি। এগুলো আমরা খোলা বাজারে বিক্রি করি না। আমাদের নিজস্ব রেস্তোরাঁয় ব্যবহার করি। তিনি জানান, আপাতত পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে। বড় পরিসরে এ মরিচ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। ওই জমির মালিক আতিকুর রহমান প্রধান বলেন, আমার কাছ থেকে এক একর জমি লিজ নিয়েছে। চলতি বছর মরিচ চাষে সফলতা আসায় চায়নিজ নাগরিক আরও বেশি জমি লিজ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বলেন, চায়নিজ উদ্যোক্তার মরিচচাষ এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। এই মরিচ ক্যাপসিকামের মতো ফ্লেভারযুক্ত হলেও ঝাল অনেক বেশি। চায়নিজ রেস্টুরেন্টগুলোতে এই মরিচের চাহিদা বেশি হওয়ায় বেশ লাভজনক ফসল এটি। তিনি জানান, ওই চাষিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পোকামাকড় ও রোগবালাই প্রতিরোধে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় পরামর্শ। এদেশে এ মরিচের উৎপাদন ভালো হওয়ায় আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত