
রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের হওয়া ‘রাজনৈতিক হত্যা’ মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) শেখ মামুন খালেদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে এ মামলায় তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির শুরুতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেন আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনান। পরে নতুন এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চান।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ওমর ফারুক আদালতে বলেন, অভিযোগের সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার দায়িত্বকালেই গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহীন মোর্শেদ রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, আসামি এরই মধ্যে তিন দফায় ১৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়া প্রয়োজন।
আদালতে নিজের বক্তব্যে শেখ মামুন খালেদ জানান, ২০২০ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন তিনি। ১৯ বছরের কর্মজীবনে একাডেমিক কার্যক্রমেই বেশি যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাধিক পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার দাবি, আলোচিত হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল ও রমনা এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট, ককটেল বিস্ফোরণ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এতে বহু নেতাকর্মী আহত হন এবং মকবুল নামে এক কর্মীর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শতাধিকের নাম উল্লেখ এবং আরও কয়েকশ’ অজ্ঞাতপরিচয়ের ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ডিবির মতিঝিল বিভাগে তদন্তাধীন রয়েছে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।