
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খলাভাংগা মকবুল হোসেন উচ্চবিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষকের শিক্ষা-সংক্রান্ত একটি সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে যাচাই করে দেখা গেছে, ওই শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া। এ কারণে সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া তার ৩৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ আদায়যোগ্য। তবে জানতে চাইলে মুঠোফোনে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. আলী আকবর দাবি করেছেন, ওই সহকারী শিক্ষকের সনদ সঠিক। তিনি বলেন, অডিট আপত্তি উঠলে তারা ব্রডশিটে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এখনও নিষ্পত্তির চিঠি পাননি। পেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
প্রধান শিক্ষকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইএর এক কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ডিআইএ নিজে কোনো সনদ জাল বলে না। সন্দেহ হলে চিঠির মাধ্যমে সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষকে যাচাই করতে বলা হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় লিখিতভাবে ডিআইএকে জানিয়েছে, ওই শিক্ষকের সনদটি জাল। আর একই বিদ্যালয়ের অন্য সন্দেহজনক সনদের ক্ষেত্রে যাচাই করে সঠিক বলায়, সেটিকে ঠিকই সঠিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খলাভাংগা মকবুল হোসেন উচ্চবিদ্যালয়ের ওই শিক্ষকের মতো সারা দেশে আরও ৪৭১ জন শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ। তারা সবাই বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও আর্থিক স্বচ্ছতা আনতে দেশের মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের বিষয়ে পরিদর্শন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে। তবে এ সংস্থার কাজকর্ম নিয়েও নানা রকমের অভিযোগ ওঠে।
বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরীক্ষার মাধ্যমে। ডিআইএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭১ জনের মধ্যে ১৯৪ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল। এ ছাড়া ২২৯ জনের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ ও ৪৮ জনের বিপিএড, বিএড, গ্রন্থাগার বা অন্যান্য শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ভুয়া বা জাল।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠায় ডিআইএ। এর ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় এখন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) চিঠি দিয়েছে। গতকাল বুধবার পাঠানো ওই চিঠিতে নেওয়া ব্যবস্থার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।
ডিআইএর একজন কর্মকর্তা বলেন, সংস্থার পরিদর্শকেরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় শিক্ষকদের সনদের কপিও সংগ্রহ করেন। পরে সন্দেহজনক সনদ সংশ্লিষ্ট সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এবার ৪৭১ জনের যে সনদ জাল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, তার বেশির ভাগই ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পরিদর্শনের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শেষে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হয়। এর আগে ২০২৩ সালে একই ধরনের কারণে ৬৭৮ জন শিক্ষকের বেতন বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
ডিআইএর পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম বলেন, তারা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেন। মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক চ্যানেলে ব্যবস্থা নেয়। এরইমধ্যে এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে তারা জেনেছেন। তিনি আশা করেন, এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে ও এ ধরনের অনিয়ম দূর হবে।