ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথম দিন অনুপস্থিত ২৫,৪০৮

* বহিষ্কৃত ৬ * সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষায় গত বছরের প্রশ্নপত্র বিতরণ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথম দিন অনুপস্থিত ২৫,৪০৮

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে আজ মঙ্গলবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুপস্থিত ছিল ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী। তারা পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেও পরীক্ষা দেয়নি। এ ছাড়া প্রথম দিনে অসদুপায়ের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছে ছয় পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে চারজন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের, একজন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আরেকজন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীন। প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বাংলা প্রথম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। গতবারের তুলনায় এবার ৭৯ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। গতবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এ পরীক্ষা। অবশ্য প্রথম দিনে সব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা থাকে না। কারণ, অনিয়মিত অনেক পরীক্ষার্থী আছে, যারা এক, দুই বা তিন বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।

পরীক্ষা শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী গতকাল ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৮৯০ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ১১ হাজার ২১১ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ২৫০ জন। এর মধ্যে অনুপস্থিত ছিল ২ হাজার ৩০৭ জন।

গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এই পরীক্ষার প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ২৬ হাজার ৯২৮ পরীক্ষার্থী। তার আগের বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিল ১৯ হাজার ৩৫৯ পরীক্ষার্থী। গতবার অনুপস্থিত থাকার কারণ চেষ্টা করেছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। তাদের বোর্ডে গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় ছয় হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। প্রাপ্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী ১ হাজার ২০৩ জনের তথ্য বলছে, প্রায় ৪০ শতাংশের (৪৮১) বিয়ে হয়েছিল। এ ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল পারিবারিক অসচ্ছলতার জন্য কর্মক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার কারণে। অন্যরা অসুস্থতা, প্রস্তুতি ভালো না থাকাসহ নানা কারণে পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

পাঁচ কেন্দ্র পরিদর্শন করে যা দেখলেন মন্ত্রী : এসএসসি পরীক্ষা দেখতে ঢাকা, সাভার ও মানিকগঞ্জ মিলিয়ে পাঁচটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী পাঁচ কেন্দ্র পরিদর্শনের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার ঘুরে আসা কেন্দ্র ছাড়াও সারা দেশে খবর নিয়েছেন। সব বোর্ডের চেয়ারম্যানরা বলেছেন, পরীক্ষা সুন্দরভাবে হচ্ছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার আদৌ কোনো আশঙ্কা নেই এবং হয়নিও।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রথমে গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র। তিনি বলেন, এখানে এক ছাত্র আরেকজন ছাত্রের খাতা দেখছিল। শিক্ষক সামান্য অমনোযোগী ছিলেন। তিনি সাবধান করে দিয়ে এসেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটকেও বলেছেন এ বিষয়ে সাবধান করতে।

মানিকগঞ্জের আরেকটি কেন্দ্র পরিদর্শনের চিত্র তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। এই পরীক্ষাকেন্দ্রে সুন্দর পরীক্ষা হচ্ছে। অভিভাবকরা অত্যন্ত সহনশীল।

পরিদর্শন করা আরেকটি কেন্দ্র হলো সাভারের তেঁতুলঝোড়া উচ্চবিদ্যালয়। মন্ত্রী বলেন, সেখানেও খুব সুন্দর পরিবেশ। এরপর আমিনবাজার এলাকার আরেকটি কেন্দ্র পরিদর্শনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখানেও সুন্দর পরিবেশ।

সর্বশেষ মিরপুরের পাইকপাড়ার মডেল একাডেমি স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শন করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সেখানেও দেখলাম খুব সুন্দর পরীক্ষা হচ্ছে।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন রাজধানীর ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাইস্কুল, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং গণভবন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

সোনারগাঁয়ে এসএসসি পরীক্ষায় গত বছরের প্রশ্নপত্র বিতরণ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্রে গত বছরের সিলেবাসের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বিষয়টি ধরা পড়লে ১৭৭ জন শিক্ষার্থীকে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। তাদের অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে সোনারগাঁ উপজেলার ৪৯৮ নম্বর কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রটিতে মোট ৭৬৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৭৬০ জন।

কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শুরু হলে সৃজনশীল অংশের প্রশ্নপত্র বিতরণের সময় দুটি হলের ১৭৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ভুলবশত ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শুরুর ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিষয়টি দায়িত্বরত ব্যক্তিদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রের দুটি হলের পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ওই হলের ১৭৭ পরীক্ষার্থীকে ২০২৬ সালের ঢাকা বোর্ডের অতিরিক্ত সরবরাহ করা প্রশ্নপত্র দিয়ে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

সিনহা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার জানায়, তাদের ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। পরে ভুল প্রশ্নের বিষয়টি নজরে এলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রসচিব মো. আবদুল মতিন সরকার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরে পরীক্ষার্থীদের যে সময়টা লস হয়েছিল, ওইটুকু সময় অতিরিক্ত দিয়ে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আমাদের এমসিকিউ পরীক্ষা ঠিক হয়েছে, তবে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে এ ভুল হয়েছে। এটা আমাদের কেন্দ্রের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত যাঁরা আছেন, তাঁদের সবার ভুল। পরে পরীক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই নতুন প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষা বোর্ডে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

এদিকে ঘটনায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এমন পরীক্ষায় এ ধরনের ভুল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যাদের অবহেলার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

রাবেয়া বসরি নামের এক অভিভাবক জানান, কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বে গাফিলতির কারণে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছিল। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আলী জিন্নাহ বলেন, একটি কেন্দ্রের দুটি হলে ভুলবশত পরীক্ষার্থীদের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছিল। পরে ছাত্রছাত্রীদের যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য যে সময়টা নষ্ট হয়েছিল, ওই সময় অতিরিক্ত দিয়ে নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঢাকা বোর্ডকেও মৌখিকভাবে জানান হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত