
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বস্তায় আদাচাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান রতন। স্বল্প জায়গায় স্বল্প খরচে বেশি লাভের লক্ষ্য নিয়ে তার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা রতন। পুকুরপাড়ের বহুদিনের পতিত জমিতে প্রথমবারের মতো তিনি এক হাজার বস্তায় আদা চাষ করেছেন। ইউটিউব, অনলাইন ভিডিও ও কৃষি জার্নাল দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই তার এ উদ্যোগ।
রতন বলেন, ‘পুকুরের ধারে জায়গাটা বেশিরভাগ সময় খালি পড়ে থাকত। তাই ভাবলাম এটা কাজে লাগানো যায় কি না। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে বস্তায় ঝুরঝুরে মাটি, গোবর, ছাই আর ভার্মিকম্পোস্ট মিশিয়ে আদা রোপণ করি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি বস্তায় প্রায় ৫০ গ্রাম করে আদার বীজ কন্দ বসানো হয়েছে। যত্নের সঙ্গে বাগানটি এখন সবুজে ভরে উঠেছে।’
তার হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক খরচ হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। সঠিক ফলন পেলে তিন থেকে চারগুণ লাভের আশা করছেন তিনি। নিজপাড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন বলেন, বস্তায় আদা চাষ জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি। এতে মাটিবাহিত রোগ ও অতিবৃষ্টির ঝুঁকি কম থাকে। প্রয়োজনে বস্তা সরিয়েও নেওয়া যায়।’
এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস বলেন, ‘রতনের মতো উদ্যোগী তরুণরা কৃষিতে নতুন পথ দেখাচ্ছেন। এতে কৃষকরা নতুনভাবে উৎসাহ পাচ্ছেন, বিশেষত যুবসমাজ। বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবনী চাষাবাদ টেকসই কৃষির ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির ছাদ, উঠান ও পতিত জমিতে বস্তায় আদা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রতনের সাফল্য দেখিয়ে দিয়েছে-গ্রামীণ কৃষি প্রযুক্তিতে সৃজনশীলতা যোগ হলে পতিত জমিও হতে পারে সবুজ সম্ভাবনার ক্ষেত্র।