ঢাকা বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া সেই মায়ের জামিন

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া সেই মায়ের জামিন

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগমের জামিনের আদেশ এল। জামিন আবেদন পুনর্বিবেচনার আবেদনের পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এই আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে দেড় মাসের শিশুসহ তাকে কারাগারে পাঠানো হলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিল্পী বেগমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, আশা করছি, আগামীকাল তারা কারামুক্ত হবেন।

শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সোমবার সন্ধ্যায় তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার এসআই শেখ নজরুল ইসলাম। দুপুর ২টার দিকে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়। শিল্পীর স্বামী, বোন, ননদ, খালাসহ স্বজনরা আদালতে হাজির হন। তারা বলছিলেন, গেল মাসের ৪ তারিখে আদণ্ডদ্বীন হাসপাতাল সিজারিয়ানের মাধ্যমে জন্ম নেয় শিশু; মাতৃদুগ্ধ পান করে। বাথরুমে পড়ে বাম হাত ভেঙে গেছে শিল্পীর। বাচ্চাকে ঠিকমতো কোলেও নিতে পারে না, একা সামলাতে পারেন না। শিল্পীর পক্ষে তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিন নাকচের আদেশ শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিল্পী। শিল্পী অসুস্থ থাকায় আদালতপাড়ায় স্বজনরাই বাচ্চাকে কোলে করে রাখেন। কান্নাকাটি করলে বাচ্চাকে দুধ পান করান তিনি।

শিল্পী বলেন, সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমতো খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে। আমার বাচ্চা মরে যাবে। আমার হাতে সমস্যা, বাচ্চা পালতে পারি না। ওকে আমি আমার সাথে নেব না। বিকাল ৩টা ১২ মিনিটের দিকে শিল্পীকে আদালত থেকে বের করে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। আদালতের চতুর্থ তলা থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চাকে কোলে করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকেন। আর বলেন, রাজনীতির কারণে আমার এ অবস্থা। রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ কারাগারে যেতে হচ্ছে। জেলখানায় নিয়ে গেলে আমার বাচ্চাটা মরে যাবে। ওরে আমি আমার সাথে নেব না।

এরপর জামিন আবেদন পুর্নবিবেচনার আবেদন করেন শিল্পীর আইনজীবী। রাতে শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিনের আদেশ দেয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন। পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালান। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত