ঢাকা শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গাজীপুরে ৫ খুন

অভিযুক্ত ফোরকান পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে : পুলিশ

অভিযুক্ত ফোরকান পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছে : পুলিশ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় পলাতক গৃহকর্তা ফোরকান মোল্লার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ৪০ বছর বয়সি ফোরকান তার মোবাইলটি পদ্মা সেতুর উপর রেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ঘটনাস্থলের ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন।

তিনি বলেন, “স্ত্রী-সন্তানসহ পাঁচজনকে হত্যার দুই দিন পর গত সোমবার সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে প্রাইভেট কারে করে ফোরকান পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি থামেন। পরে সেতুর রেলিংয়ের উপর ফোরকান নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রেখে ২ থেকে ৩ মিনিট পর নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় তার পরনে সাদা সার্ট ও কালো প্যান্ট ছিল। পরে সকাল পৌনে ৭টার দিকে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাক চালকের এক সহকারী মোবাইল ফোনটি দেখে কুড়িয়ে নেয় এবং মেহেরপুরে চলে যায়। পুলিশ সুপার শরিফ উদ্দীন বলেন, পরে ওইদিনই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেহেরপুর থেকে মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক ছিলেন ফোরকান। তিনি বলেন, আসামি ফোরকান পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পাঁচজনকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার উদ্দেশে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এ ঘটনার পর পদ্মা সেতুর আশেপাশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলাটির তদন্ত চলমান।

পুলিশ সুপার বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে মো. ফোরকান মোল্লা (৪০) পেশায় প্রাইভেট কার চালক। পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় গোপালগঞ্জের পাইককান্দি গ্রামের মোছা. শারমিনের (৩৫) সঙ্গে।

তাদের সংসারে তিন মেয়ে মীম (১৬), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) জন্ম নেয়। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে ফোরকান স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৮ মে রাতে ফোরকান তার শ্যালক রসূল মোল্লাকে (২২) পোশাক কারখানায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে কাপাসিয়ায় ডেকে নেন। এরপর রাত ৮টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো এক সময়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ বা অচেতন করা পদার্থ মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে খাওয়ান। পরে চাপাতি দিয়ে তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় পাঁচজনের লাশ উদ্ধার হলে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় শারমিনের বাবা মো. শাহাদৎ মোল্লা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. যোবায়েরের ওপর। পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পুরো পরিবারকে হত্যার পর আত্মগোপনের পরিবর্তে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ফোরকান। তবে তিনি জীবিত নাকি নদীতে ডুবে মারা গেছেন, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত