ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সংসদে আলোচনা ছাড়া তেলের দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’

বললেন জামায়াত আমির
সংসদে আলোচনা ছাড়া তেলের দাম বাড়ানো জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’

সংসদে আলোচনা ছাড়া তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছে বলে মনে করেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত মাসে ৮ থেকে ১২ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে। এ মাসে আবারও প্রায় পাঁচ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এটি আসলেই জনগণের ওপর একটা জুলুম। তা যদি করতেই হয়, তাহলে সংসদে আলোচনা করে করা যেত।’

‘মূল্য বৃদ্ধি করতেই হলে তা সংসদে আলোচনা করে করা উচিত ছিল। কিন্তু জনগণ ঘুমিয়ে থাকার সময় রাতের আঁধারে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে; যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে এখন সবকিছুর দাম বাড়বে। এটি জনস্বার্থবিরোধী।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলা এলাকায় নির্যাতনে নিহত চার বছরের এক মেয়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে ৬ মে শিশুটি নিখোঁজ হয়; দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় জাকির হোসেন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গলা টিপে হত্যা করেন বলে দাবি পুলিশের।

শিশুটির হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হত্যা মামলার বিচার যদি দীর্ঘ সূত্রিতার দিকে যায়, তাহলে আমরা ধরে নেব এই বিচার আর হবে না। রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের মতো এই শিশু হত্যার বিচারও ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে সরকারকে এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। ‘অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ক্ষমতায় থাকার কোনও যৌক্তিকতা নেই।’

ঘটনার ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া উদ্বেগ জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী আইনগতসহ সব ধরনের সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে থাকবে। তিনি স্থানীয় জনগণকেও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

‘আমরা চাই না আর কোনো বাবা-মাকে বলতে হোক আমার সন্তানকে আর ফিরে পাব না, আমি শুধু বিচার চাই। বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে’, বলেন তিনি। দেশের যেখানেই কোনো নির্যাতিত বা মজলুম মানুষের ঘটনা ঘটবে, সেখানেই তার দল মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন শফিকুর রহমান।

এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচার ব্যবস্থার অগ্রগতি এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘এটা জনগণের পার্লামেন্ট। আমারও একটি পার্লামেন্ট আছে। আগামী ৭ তারিখ থেকে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে আমরা আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করব।’

‘আমরা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব এবং আমাদের অবস্থান তুলে ধরব।’

সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য সংসদেই উপস্থাপন করবেন তিনি। তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় দ্রুত বিচার না হলে মানুষের আস্থা কমে যায়। দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে বলে বলে মনে করেন তিনি।

দেশ ভালো নেই জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এত মানুষের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ এখন সেই প্রত্যাশার বিপরীতে হাঁটছে। তবে ওই স্রোত যত ভয়াবহ হোক, আমরা সেই স্রোতের বিপরীতে লড়াই করে যাব।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত