ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

বীরগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন লাউ চাষে লাভবান কৃষক

বীরগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন লাউ চাষে লাভবান কৃষক

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরসভার মাকড়াই গ্রামের কৃষক বকুল গ্রীস্মকালীন সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে এলাকায় সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা এই লাউ এরই মধ্যে বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় তার এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সময়ের কণ্ঠস্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)-এর আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের জৈব ও আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসেবে ২০ শতক জমিতে জৈব সবজি উৎপাদনের একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। এই প্রদর্শনী কার্যক্রমে গ্রীস্মকালীন সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেন বকুল। বকুল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি মোট ৫০ শতক জমিতে সুপার গ্রিন জাতের লাউ চাষ করেছেন।

তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে খেত থেকে লাউ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। জমিতে এখনও পর্যাপ্ত পরিমাণ লাউ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাকি ফলন বিক্রি করে আরও আনুমানিক ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বকুল বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছি। গ্রীস্মকালীন সুপার গ্রিন জাতের লাউ দেখতে আকর্ষণীয়, আকারে বড় এবং ওজন বেশি হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ লাউয়ের তুলনায় সুপার গ্রিন জাতের লাউ ক্রেতাদের বেশি আকৃষ্ট করছে। পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকেই লাউ কিনে নিচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ কমছে এবং কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বকুলের এই সাফল্য দেখে অনেকেই আগামী মৌসুমে সুপার গ্রিন জাতের লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। মাকড়াই গ্রামের এক কৃষক বলেন, এত অল্প খরচে যদি এত লাভ হয়, তাহলে লাউ চাষ অবশ্যই লাভজনক। আমরা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এই জাতের লাউ চাষ করব। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনাজপুর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত চাষাবাদ, জৈব পদ্ধতির ব্যবহার এবং সরকারি সহায়তা পেলে অল্প জমিতেও কৃষকরা স্বাবলম্বী হতে পারেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সুপার গ্রিন জাতের লাউ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় এই জাতের লাউ চাষে ঝুঁকি কম। সঠিক সময়ে চাষ ও নিয়মিত পরিচর্যা করলে অল্প জমিতেও ভালো লাভ করা সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জৈব ও পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করা হচ্ছে। জৈব সবজি উৎপাদন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকরা হাতে-কলমে শিখছেন কীভাবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদন করা যায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত