ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ঢাকা-ওয়াশিংটন চুক্তি বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ভূমিকা রাখবে

ঢাকা-ওয়াশিংটন চুক্তি বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ভূমিকা রাখবে

ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবি উঠলেও সেটির পক্ষে জাতীয় সংসদে নানা যুক্তি তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, এ চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।

চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করেন তিনি।

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার।

চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে ‘বেঁধে ফেলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। এ চুক্তিকে ‘অসম’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করছে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহল। চুক্তিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, সমাবেশ, সভা-সেমিনারসহ নানা কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। কিন্তু বুধবার সংসদে এই চুক্তির পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নানা যুক্তি তুলে ধরেন। দেশের অর্থনীতি নিয়ে সরকারের নানা উদ্যোগের কথাও সংসদে তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

বাজার সম্প্রসারণ ও শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পিটিএ, এফটিএ ও সিইপিএ করার উদ্যোগ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে; মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কার্যক্রম এগোচ্ছে।

জিসিসিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও চলছে বলে জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম চলছে। চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শপথ নেওয়ার পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরাকান আর্মি প্রধান- দুজনকেই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, ‘যা ইতোপূর্বে ঘটেনি’। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম চলছে। চারটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। বিদেশে বাকি মিশনগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, মিশনগুলোর ভাড়া বাবদ সরকারকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত