ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

যে খাবারে মুখে ঘা হতে পারে

যে খাবারে মুখে ঘা হতে পারে

মুখের ঘা হলো ছোট ও যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত যা গালের ভেতরে, ঠোঁটে বা জিহ্বায় দেখা দেয়। এটি অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। জীবনের কোনো না কোনো সময়ে বেশিরভাগ মানুষই এর সম্মুখীন হন। যদিও মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন এবং পুষ্টির অভাব এর পরিচিত কারণ, তবে অনেকেই খাবারের ভূমিকা উপেক্ষা করেন। আপনার প্রতিদিনের খাবার মুখের ঘা সৃষ্টি করতে পারে অথবা বিদ্যমান ঘাকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে।

কিছু নির্দিষ্ট খাবার কি সত্যিই মুখের ঘা সৃষ্টি করতে পারে? এর সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো- হ্যাঁ। কিছু খাবার সত্যিই ঘা সৃষ্টি করতে পারে এবং কিছু খাবার আগে থেকে বিদ্যমান সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে জানি না কেন আমাদের মুখের ঘা হয়। আবার অন্যদের ক্ষেত্রে, কিছু নির্দিষ্ট খাবার আগে থেকে থাকা মুখের ঘাকে বাড়িয়ে তোলে বা তাতে জ্বালা সৃষ্টি করে, বিশেষ করে যদি আপনার আগে থেকেই এ ধরনের সমস্যা হওয়ার প্রবণতা থাকে।

জার্নাল অফ ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চণ্ডএ প্রকাশিত ২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, মুখের ঘা পুনরায় হওয়ার ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষকরা ৭৫৪ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর গবেষণা করে দেখেছেন যে নিয়মিত ফল খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা মুখের ঘা পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষণাটি থেকে বোঝা যায় যে, ফলে থাকা ভিটামিন সি এবং ফোলেটের মতো পুষ্টি উপাদান এবং পানিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ মুখের ভেতরের আস্তরণকে রক্ষা করতে এবং ঘা হওয়ার হার কমাতে সাহায্য করে। জেনে নিন কোন খাবারগুলো মুখের ঘা বাড়িয়ে তুলতে পারে-

ঝাল খাবার : ঝাল খাবার এর অন্যতম প্রধান কারণ। মরিচ, হট সস এবং অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার মুখের নরম আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করে। এর ফলে ব্যথা হতে পারে, নতুন ঘা তৈরি হতে পারে, অথবা বিদ্যমান ঘা আরও বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

অমøীয় খাবার ও পানীয় : অমøীয় খাবার শুধু জ্বালাই করে না, এগুলো ক্ষত নিরাময়েও সক্রিয়ভাবে বিলম্ব ঘটায়। কমলা, লেবু, জাম্বুরা এবং টমেটোর মতো অম্লীয় ফল এবং ভিনেগার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে যদি আপনার ক্যানকার সোর (মুখের ঘা) থাকে।

লবণাক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস : লবণাক্ত এবং প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস যেমন চিপস, চানাচুর ইত্যাদি অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারে। এই ধরনের খাবারে থাকা অতিরিক্ত লবণ মুখের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে ক্যানকার সোর বা মুখের ঘা তৈরি হয়।

মচমচে খাবার : টোস্ট, ক্র্যাকার এবং বাদামের মতো শক্ত বা মচমচে খাবার মুখের ভেতরের আস্তরণে সামান্য শারীরিক আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। যাদের আগে থেকেই আলসারের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ক্র্যাকারের ধারালো প্রান্তের সামান্য আঁচড়ও আলসারের কারণ হতে পারে।

অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার : খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতাও একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে চকোলেট, কফি, স্ট্রবেরি বা বাদাম খাওয়ার পর মুখের আলসার হতে পারে। এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়, তাই আপনার নিজের জন্য দায়ী বিষয়গুলো শনাক্ত করা জরুরি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত