ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হঠাৎ বেড়ে গেল তিস্তার পানি ঘরবন্দি শত শত পরিবার

হঠাৎ বেড়ে গেল তিস্তার পানি ঘরবন্দি শত শত পরিবার

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার, সকাল ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২টায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। তবে বিকাল ৩টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে পানি। পানি বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আর বর্তমানে পানির উচ্চতা ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হঠাৎ সোমবার থেকে উজানের ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে তিস্তা তীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত) জানান, সোমবার রাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দিশেহারা হয়ে উঁচু জায়গায় যেতে বাধ্য হন। এতে চর, গ্রামসহ নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্রায় ১ হাজার পরিবার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের অনুরোধ জানান তিনি। উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, জেলার ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের সাত গ্রামের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এসব পরিবারের মধ্যে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছে।

এদিকে জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও শৌলমারী ইউনিয়নের শতশত পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের রাস্তাঘাট, শাকসবজি, পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে ক্রমেই বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।

ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হতে থাকে। মঙ্গলবার দুপরে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকাল ৩টায় এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বানভাসি মানুষের কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারাজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সতর্ক রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে, আতঙ্কে তিস্তা পারের মানুষজন : ভারি বৃষ্টি এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারোজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে! বেলা তিনটায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট সার্বক্ষণিক খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবো সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই-তিন দিন এ অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনিত হওযার আশঙ্কা রয়েছে।

ত্রাণ নয়, চাই পানি যেন আর ভারত থেকে না আসে। তিস্তার বাঁধে কথা হয় সাবেক স্কুল শিক্ষক মহিরুদ্দিনের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ভারত সরকার আমাদের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে, শুষ্ক মৌসুমে যখন পানির জন্য হাহাকার অবস্থা তখন গেট বন্ধ করে দিয়ে আমাদের কষ্টে রাখে, আর বন্যা মৌসুমে যখন পানির প্রয়োজন নেই, তখন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা গজলডোবা ব্যারেজের ৫৪টি গেট খুলে দিয়ে আমাদের ভাসিয়ে দেয়। আমি ভারতের এই তীব্র অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিস্তাতীরের উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের আলী মিয়া, বলেন, তিস্তা তীরবর্তী এলাকার রাস্তা ঘাট ডুবে গেছে। এভাবে পানি আসতে থাকলে যে কোন সময় আরও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা তার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, বৃষ্টি ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি মঙ্গলবার ভোর থেকে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।এতে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে দেখা দিয়েছে বন্যা। তাই এসব অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিস্তা ব্যারেজের নিবাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার বেলা ৩টায় তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খোলা রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও রাস্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করছি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত