ঢাকা সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াল

ভেনেজুয়েলার ধ্বংসাত্মক জোড়া ভূমিকম্পের চারদিনের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো দেশটিতে প্রবেশ করছে আর কর্তৃপক্ষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বন্দর শহর লা গুয়াইরা ও রাজধানী কারাকাসের কিছু অংশে উদ্ধারকারীরা ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার মৃতের সর্বশেষ সংখ্যা সামনে আসে। পরিবারগুলো ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই এলাকাগুলোয় চার দিন ধরে জীবিতদের ও লাশ উদ্ধার করে চলছেন। তারা প্রায়ই ভারী সরঞ্জামের অপ্রতুলতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের সীমিত উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ করছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার মৃতের সংখ্যা ১৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। ১৬০০ জনেরও বেশি বিদেশি উদ্ধারকারী এসেছেন, আরও অতিরিক্ত অনেকগুলো দল পথে আছে। প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় আহত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার আগে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ও এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় আরেকটি ভূমিকম্প হয়। উত্তরাঞ্চলে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মূল ভূমিকম্প দুটির পর থেকে কয়েকশ পরাঘাত অনুভূত হয়েছে।

লা গুয়াইরা রাজ্যের উপকূলীয় শহর কারাবালেদা অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। এখানে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো উদ্ধারকারী দলগুলোকে এনে নামিয়ে দিচ্ছিল।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত কয়েকশ মানুষ নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। কিন্তু দেশটির বিরোধীদলীয় ওয়েবসাইটে ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আর জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) হিসাবে শক্তিশালী ওই দুই ভূমিকম্পে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ লা গুয়াইরায় প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে আর কারাকাস থেকে আসা প্রধান সড়কটি ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। অন্য যানবাহনের কারণে জরুরি বিভাগের যান চলাচল ধীর হয়ে যায় বলে কারণ দেখিয়েছে তারা। সরকারি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যুক্ত নন এমন বেসামরিক নাগরিকদের চেকপয়েন্ট পার হতে পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হচ্ছে। ভূমিকম্পের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে পুরো অঞ্চল বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছিল। তবে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ গ্রিড বছরের পর বছর ধরে স্বল্প বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছে, এতে বহু অঞ্চল ঘন্টাব্যাপী লোডশেডিংয়ের মধ্যে থাকতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত