
সরাইল রিজিয়নের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে বিজিবি। সবশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা ১০ ও ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে পুশইন বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন। গত তিন বছরে এই দুই ব্যাটালিয়ন ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য আটক ও জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক রয়েছে আড়াই শতাধিক আসামি।’
মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার, ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম শরিফুল ইসলাম, ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, র্যাব অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ আলী বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও জব্দ করেছে।
‘উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল ভারতীয় স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল ভারতীয় বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল ভারতীয় হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৮ ভারতীয় ইয়াবা এবং ২৪ দশমিক ৫ লিটার খোলা মদ রয়েছে।’
এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট, ইনজেকশন, সিরাপ, হার্বাল ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ সিগারেট, জর্দা ও বিড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এজাজ আলী বলেন, ‘কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৯৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং সুলতানপুর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৭৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে এসব মাদক প্রবেশ করে।
‘বিজিবির একক অভিযান ও বিভিন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে গত তিন বছরে এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। জনস্বার্থে এসব মাদকদ্রব্য প্রকাশ্যে ধ্বংস করে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হচ্ছে।’
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি মাদক উদ্ধারে সফলতা দেখাচ্ছে। আমরা আশা করব সকল বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদকের চোরাচালান সম্পূর্ণ বন্ধ হবে। আমরা সবাইকে সতর্ক ও সচেতন করতে চাই।’
সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলছেন, ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠান মূলত একটি ‘প্রতীকী’ অনুষ্ঠান। পুরো রিজিয়নে এই মাদক উদ্ধারের পরিমাণ আরও বেশি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় মাদকের এই সরবরাহ চেইন ধ্বংস করতে। পাশের দেশ থেকে আসা মাদকের আগ্রাসনে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হোক তা আমরা চাই না।’