ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হবিগঞ্জে মুখোমুখি এনসিপি-বিএনপি, ১৪৪ ধারা জারি

* এনসিপি-বিএনপির কর্মসূচি : হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা * চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপির মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা * পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের পথে এনসিপির নেতারা
হবিগঞ্জে মুখোমুখি এনসিপি-বিএনপি, ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জে বিএনপি ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জিএম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ জানায়, এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ছাড়া দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, উভয় পক্ষের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম এবং চলমান উত্তেজনার কারণে সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বার্থে পুরো হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এর আগে এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

এনসিপি নেতাদের দাবি, সন্ধ্যায় শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়ি বহরে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন।

অপরদিকে ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, দুপুরে আজমিরীগঞ্জে শহিদ মিনারে সমাবেশে এনসিপি নেতারা বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে ‘গুণ্ডাবাহিনী’ বলে বক্তব্য দেন। এতে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় জেলা শহরের টাউন হলে পদযাত্রা শেষে এনসিপি নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিরাপদে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় বলে জানান হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় তাদের সিলেটে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপির মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা : চট্টগ্রাম নগরের জামালখান প্রেসক্লাব এলাকায় বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। এতে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার দিকে প্রেসক্লাবের সামনে দুপক্ষ অবস্থান নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জামালখান প্রেসক্লাব এলাকায় দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হন।

একপর্যায়ে সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরাও অবস্থান নেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

এনসিপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হবিগঞ্জে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানাতেই তারা কর্মসূচি পালন করছিলেন।

অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতেই তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর জানান, দুপক্ষের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়েছে। পুলিশ তাদের মাঝে অবস্থান নিয়েছে।

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধার মুখে এনসিপি নেতারা : রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়েছেন এনসিপি নেতারা। কিন্তু পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে।

বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ির বহর হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।

সেখানে এনসিপি আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এনসিপি নেতাদের বহরে প্রায় ১০টি মাইক্রোবাস রয়েছে। অপরদিকে চা-কন্যা এলাকায় শতাধিক পুলিশ মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে আটকে রেখেছেন। গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপি নেতারা।

১৪৪ ধারার মধ্যে পুলিশ এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে না যেতে বলছে। অপরদিকে এনসিপি নেতারা পুলিশি বাধা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন। পরে তাদেরকে জেতে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত