
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীগুলোর ওপর ‘আকস্মিক আক্রমণের চেষ্টা করে’ ইরান ‘অনেকগুলো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে ১৩ দিন ধরে চলা লড়াইয়ে যে বিরতি ঘটেছিল তার অবসান হলো বলে লিখেছে বিবিসি। হামলাটি ইরানের স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চালানো হয়েছে আর সব ক্ষেপণাস্ত্র ‘সফলভাবে বাধা দেওয়া’ হয়েছে বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যস্থল করেছে। পরে মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সৌদি আরবের বাহিনী ইরাকে ইরান সমর্থিত পুপুলার মোবিলাইজেশন ফ্রন্টের (পিএমএফ) বসরা সদরদপ্তরে বিমান হামলা চালায়। সৌদি আরবে ইরাক থেকে হওয়া ড্রোন হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে সৌদি আরব জানিয়েছে।
পিএমএফের দপ্তরে হামলা নিয়ে ইরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে লড়াইয়ে যে বিরতি এসেছিল তাকে ভেঙে দিতে পারে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেল ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সফররত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করার দিনটিতে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালালো ইরান। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাদের সঙ্গে ইরানের ‘খুব বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত টানা ১৩ দিন ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তখন মার্কিন হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন অবস্থানগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। তারপর থেকে তিন দিন পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ ছিল। সংঘাত আবার উস্কে উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় বুধবার সকালে তেলের দাম আবার বেড়েছে। এশিয়ায় ব্রেন্টের অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল প্রতি মূল্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৭ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি মূল্য ৮২ ডলার ৬২ সেন্ট হয়। ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা : সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে ইরাকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘পূর্বপরিকল্পি নিখুঁত আক্রমণ’ চালিয়েছে।
ইরাকের এই গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার জন্য দায়ী বলে বুধবার অভিযোগ করেছে রিয়াদ, খবর আল জাজিরার। সেন্টকম জানিয়েছে, এর আগের ৭২ ঘণ্টায় সৌদি আরবে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলা হয়েছে। তারপরই ইরাকে ওই আক্রমণ চালানো হয়েছে। সেন্টকম অভিযোগ করে বলেছে, ‘ইরাক থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা হয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নির্দেশনায়।’ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য তারা যাদের দায়ী করেছিল, সেই ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর ওপর আঘাত হানা হয়েছে। রিয়াদ উত্তেজনা বৃদ্ধি চায় না; কিন্তু যে কোনো ‘আগ্রাসনের’ জবাব দেবে।
সৌদি আরবে চালানো ওই হামলাগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে বুধবার অনামা একটি সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরবে মার্কিন স্বার্থের ওপর হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোটা ছিল একটি ‘বড় ধরনের ভুল হিসাব’। গতকাল বুধবার সৌদি আরব জানায়, তাদের এয়ার ডিফেন্স ইরাক থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে। এটি দুই দিনেরও কম সময়ের মধ্যে দেশটিতে দ্বিতীয় ড্রোন হামলা ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ হামলার কথা ঘোষণা করা হয়। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি মঙ্গলবার বলেছেন, ইরাক থেকে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ড্রোনগুলো ছুড়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, রিয়াদ ‘উপযুক্ত সময় ও স্থানে’ এর জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।