
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, জনসচেতনতা না বাড়ালে সরকারের একার পক্ষে কখনোই ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সরকারি-বেসরকারি পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ডেঙ্গু নির্মূলে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং সর্বসাধারণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সামগ্রিকভাবে দেশের সেবাদানকারী এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে সঠিক পরিকল্পনা করে, তা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে আমরা এ সমস্যা থেকে উত্তরণ পেতে পারি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কমিউনিটির সম্পৃক্ততা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনসম্পৃক্ততা এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু মোকাবিলা প্রায় অসম্ভব। ডেঙ্গু রোগের প্রকৃতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দ্রুত ডেঙ্গু শনাক্ত করতে ঢাকাসহ অন্যান্য শহরের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার বুথ স্থাপন জরুরি। ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়াও তিনি ডেঙ্গু পরিস্থিতি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, সাধারণত আবাসিক এলাকায় এডিস মশা দেখা যায়। এডিস মশার প্রজনন উৎস ঘরের ভেতরে ও বাইরে। এর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অন্যান্য প্রজাতির মশার থেকে আলাদা। তাই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এডিস মশার প্রজনন প্রকৃতি এবং জীবনচক্র বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজনন উৎস ধ্বংসে বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে হবে, যারা সারা বছর ধরে ঢাকা শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক বাড়ির তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪ হাজার ৮৪৮ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩ হাজার ২৪ জন। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং ৩৯ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ রয়েছে। মোট মৃত ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা বিভাগে ৩৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ছয়জন, চট্টগ্রাম বিভাগে পাঁচজন, খুলনা বিভাগে ১৬ জন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে, বরিশালে বিভাগে আটজন এবং সিলেট বিভাগে একজন রয়েছেন।
ডেঙ্গুতে দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৭১
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭১ জন ডেঙ্গুরোগী। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২৯৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৩৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯২ জন, রংপুর বিভাগে ছয়জন, বরিশাল বিভাগে ৭০ জন, সিলেট বিভাগে তিনজন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ হাজার ২৭২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ২৪ হাজার ৩৭৪ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।