ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিলে নজরদারির নির্দেশ

খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংক খাতের লাগামহীন খেলাপি ঋণ আদায় ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ১৮ মাসের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত কাঠামোর প্রথম ছয় মাস ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে সমঝোতার সুযোগ থাকলেও পরবর্তী ১২ মাসে নতুন ও সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছয় মাসের পরিবর্তে প্রতি তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি পর্যালোচনা এবং শিল্প পুনরুজ্জীবনে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলে কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গত ২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা-যা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে (ডিসেম্বর-মার্চ) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন আদালতে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত ২ লাখ ২২ হাজার ৩৪১টি মামলায় আটকে আছে ৪ লাখ ৭ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

এই অচলাবস্থা কাটাতে গভর্নর সভায় জানানো হয়, প্রথম ৬ মাস ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতার মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পাওনা আদায়ের সুযোগ থাকবে। পরবর্তী ১২ মাস ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট’ প্রণয়ন এবং সংশোধিত ‘মানি লোন কোর্ট অ্যাক্ট’ কার্যকর করে সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ঋণের প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আইন দুটির খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং দ্রুতই তা চূড়ান্ত হবে।

বন্ধ ও সংকটে থাকা শিল্পকারখানা সচল, কৃষি ও সিএমএসএমই খাত চাঙা করতে গত মে মাসে ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ যেন অনুৎপাদনশীল খাত, ট্রেডিং বা খেলাপি ঋণ পুনঃঅর্থায়নে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সদস্য মঈনুল ইসলামসহ অন্যান্য সংসদ সদস্য অতীতের প্রণোদনা প্যাকেজের ব্যর্থতা তুলে ধরে স্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানান। জবাবে গভর্নর আশ্বস্ত করেন যে, বড় কর্পোরেট গ্রুপের বদলে ক্ষুদ্র ও উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তারা অগ্রাধিকার পাবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করা ৩৮টি ব্যাংকের বিতরণ প্রক্রিয়া নিবিড় তদারকিতে থাকবে।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথাগত ৬ মাসের মুদ্রানীতি প্রণয়নের পরিবর্তে প্রতি ৩ মাস পরপর তা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়। ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, নীতি সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হলেও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পুরোপুরি সুফল মেলেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন ‘ইন্টারেস্ট রেট টার্গেটিং’-এর দিকে এগোচ্ছে। ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম দাবি করেন, শুধু গ্রহীতা নয়, ঋণ অনুমোদনকারী ব্যাংক পরিচালকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। খেলাপিদের জন্য ‘সেফ এক্সিট’ সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩০ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো, সুদের কার্যকর হার কমানো এবং মুদ্রানীতিতে ইসলামী ব্যাংকিংকে (যা খাতের ৩০%) বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত