
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বঙ্গোপসাগর কোলঘেঁষা দুর্গম ইউনিয়ন ঢালচরসহ বিভিন্ন সরকারি খালগুলোতে বিষ প্রয়োগ করে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। অব্যাহত বিষপ্রয়োগের ফলে খালের ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে, এতে খালের গহীণে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মাছের পোনাসহ জীববৈচিত্র্য প্রতিনিয়ত ধ্বংস হচ্ছে। ফলে মাছ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পূর্ব ঢালচরসহ ঢালচর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সরকারি খালে ও জলাশয়ে দিন-রাত্রির যেকোনো সময়ে অল্প সময়ে বেশি মাছ ধরার জন্য জেলে নামধারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিষ প্রয়োগে নানান প্রজাতির মাছ শিকার করছে। বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ খালের পানিতে ফেলার পরপরই চিংড়ি, পোয়া, বাইলা, ভেটকি, রুপচাঁদা, দাঁতিনা, চিত্রা, পাঙাশ, লইট্যা, ছুরি, মেদ, পাইস্যা, পোয়া, তপসে, লাক্ষা, কই, মাগুর, কাইন, ট্যাংরাসহ নানা প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছ মরে পানির ওপরে ভেসে ওঠে। এতে বড় মাছের সঙ্গে ছোট বড়সহ সব ধরনের মাছে বংশবৃদ্ধিই চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও বিষাক্ত পানি পানের কারণে এসব এলাকার গবাদিপশু ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের নজরদারির অভাব এবং তাদের উদাসীনতার কারণকে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
তাদের আরও অভিযোগ, পরিবেশবিধ্বংসী এমন অপরাধে সরাসরি যুক্ত রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয় ২০/২৫ জন জেলে ও অসাধু ব্যক্তি বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে যে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ও প্রত্যক্ষ মদদে শিশুদেরও এই অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষি ফসলে পোকা দমনে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক দিয়ে এসব মাছ শিকার করা হয়। এরমধ্যে ডায়মগ্রো, ফাইটার, রিপকর্ড এবং পেসিকল নামক কীটনাশকই বেশি ব্যবহার করেন জেলেরা। জানা গেছে, এই বিষ বাজারের যেকোন কীটনাশকের দোকান থেকে সংগ্রহ করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষ দিলে মাছের সঙ্গে সব প্রজাতির জলজ প্রাণীই মারা যায়। এটা জীববৈচিত্র্যের জন্য খুবই মারাত্মক হুমকি। পরিবেশের ওপর যেমন বিরূপ প্রভাব পড়ে অন্যদিকে বিষে মরা ওই মাছ খেয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে এক দিকে যেমন প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ বিলুপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে খালের বিষাক্ত পানি ব্যবহার করায় ছড়িয়ে পড়ছে নানাবিধ শারীরিক সমস্যা। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক জানান, বিষাক্ত পানির মাছ খেলে মানুষের পেটের পীড়াসহ কিডনি ও লিভারে জটিলতা দেখা দেয়। ঢালচর ফরেস্ট অফিসের বিট কর্মকর্তা বাহাউদ্দীন বলেন, এরকম একটি চক্র আছে। আমরা তাদের পাকড়াও করতে অভিযান পরিচালনা করেছি।